kalerkantho

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি    

২২ মার্চ, ২০১৯ ১৬:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার গণেশপুর গ্রামের হাসপাতালপাড়া এলাকায় স্ত্রী আরিফা খাতুনের (১৮) শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামী জাহিদ হাসান জনির বিরুদ্ধে।

যৌতুকের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, চিকিৎসা নিতে স্বামীর দফায় দফায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পর আজ শুক্রবার (২২ মার্চ) সকালে আরিফাকে তার বাবার বাড়ি পৌর শহরের পোস্ট অফিসপাড়া থেকে উদ্ধার করে পৌরসভার সহযোগিতায় মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠান। এই সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

হাসপাতাল ও আরিফার পরিবার সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সরকারপাড়া গ্রামের ফেরদৌস হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান জনির সঙ্গে বিয়ে হয় আরিফার। বিয়ের পর জনি গণেশপুর গ্রামের হাসপাতালপাড়া এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছিলেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্ত্রী আরিফাকে নির্যাতন করতেন জনি।

আরিফার বাবা ভ্যানচালক কামাল হোসেন জানান, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য এ পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। আরো টাকার জন্য তার মেয়েকে মারধর করা হতো।

হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আরিফার সঙ্গে কথা বলে তার খালা রাবেয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে একটি রঙ্গিন টেলিভিশন ও টাকা নিয়ে আসার জন্য আরিফাকে মারধর করা হয়। আরিফা বাবার বাড়ি থেকে এসব এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বালিশচাপা ও গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালান জনি।

একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে শরীরে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আরিফার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলেও ২০ গজ দূরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিতে দেননি স্বামী জনি। খবর পেয়ে আরিফার বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন আসলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত ১টা ১৫ মিনিটে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তাঁরা।

রাতেই চিকিৎসক জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হসপাতালে পাঠালেও স্বামী জনি কৌশলে আরিফাকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে রাতেই আরিফার সঙ্গে থাকা তার বাবা-মা কে শাসিয়ে আরিফার বাবার বাড়ি পৌর শহরের পোস্ট অফিসপাড়ায় নিয়ে আসেন। সরকারি  দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো জনির দাপটে মেয়ের চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িতে রাখতেই বাধ্য হন দরিদ্র বাবা-মা।

খালা রাবেয়া আরো জানান, আজ শুক্রবার সকালে আরিফার স্বামী তার বাবা- মায়ের সামনেই আরিফার কানের কাছে গিয়ে বলেন, 'মরে গেলে ভালো, না হলে বেঁচে থাকলে টাকা আর রঙ্গিন টেলিভিশন নিয়ে যাস'। সকালে খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা পৌর মেয়র আরিফাকে উন্নত চিকিৎসার ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

আরিফার বাবা কামাল হোসেন বলেন, 'আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। আমি কীভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাব।' মেয়ের এই ঘটনার জন্য তিনি বিচার দাবি করেন।

এদিকে, জনির বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তার চাচি সুচনা বলেন, রাত ১০টার দিকে চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি আরিফা তার নিজের শরীরে নিজেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এত কাছে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হলো কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সুচনা বলেন, 'ভাতিজা জনি বলছিল বাড়িতেই চিকিৎসা হবে।' 

পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, আরিফার বুক থেকে হাঁটু পর্যন্ত পুড়ে গেছে।' পাঁচবিবি থানার ওসি বজলার রহমান বলেন, 'অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

মন্তব্য