kalerkantho

বিজয়ী লোকমান চৌধুরীর কাছে উন্নয়ন প্রত্যাশা জকিগঞ্জবাসীর

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৩২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিজয়ী লোকমান চৌধুরীর কাছে উন্নয়ন প্রত্যাশা জকিগঞ্জবাসীর

লোকমান চৌধুরী

১৯৭৪ থেকে ২০১৯। টানা ৪৫ বছর। শ্রম, মেধা, সময় ও অর্থ দিয়ে দলের জন্য কাজ করেছেন। দলের নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন প্রচুর। কিন্তু নির্বাচনে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন অনেক দেরীতে। এবার শুধু দল নয় দলমত নির্বিশেষে সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। দল যখন ক্ষমতায়, নিজের ঘনিষ্টজন যখন দলীয় এমপি তখন যে তার নির্বাচনে পাস করার  দরকার মনে করছিলেন অনেকেই। ঠিক এ সময়ই এলো কাঙ্খিত বিজয়। জকিগঞ্জের ৫ম উপজেলা নির্বাচনে ১৮ মার্চ উপজেলার ৭৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭৪টিতেই বিজয়ী হন তিনি। ৩৬ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী লোকমান চৌধুরীর কাছে উপজেলাবাসীর উন্নয়ন প্রত্যাশা একটু বেশিই।

এবারের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লোকমান উদ্দিন চৌধুরীকে ৩০ জানুয়ারি একক প্রার্থী মনোনীত করেন নেতাকর্মীরা । ২০১৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। দলকে সংগঠিত করার জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তার নেতৃত্বে উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পৌরসভার ওয়ার্ড ও পৌর কমিটি গঠিত হয়েছে। জকিগঞ্জ পৌরসভার একটি ওয়ার্ড ও জকিগঞ্জ উপজেলার ২টি ইউনিয়ন ছাড়া বাকী সব কয়টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী মো. খলিল উদ্দিনকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখেন লোকমান চৌধুরী।

এ সময়ে গঠিত হয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিকলীগ ও মহিলালীগের নতুন কমিটি। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে চষে বেড়িয়েছেন পুরা উপজেলায়। সময়, শ্রম ও অর্থ দিয়ে দলকে রেখেছেন চাঙ্গা। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সাংসদ হাফিজ মজুমদারকে নির্বাচনের মাঠে আনা এবং বিজয়ী করতে নেপথ্যে কাজ করেন লোকমান চৌধুরী। সিলেটের শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করছে হাফিজ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টের সচিব হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন লোকমান চৌধুরী।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল আহমদ তাপাদারের নিকট ৩৮৩২ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান আওয়ামী লীগ প্রার্থী লোকমান উদ্দিন চৌধুরী। দলীয় কোন্দলের কারণেই সে নির্বাচনে লোকমান চৌধুরীর নিশ্চিত জয় তখন হাতছাড়া হয় বলে অনেকের ধারণা। ১৯৮৭ সালে সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা আবুল বাইসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যায়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ১৯৯২ সালে সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়াত আছদ্দর আলী ছই মিয়ার সঙ্গে নির্বাচন করে মাত্র ১০২ ভোটের জন্য হেরে যান লোকমান চৌধুরী।

সিলেটের মদন মোহন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় ১৯৭৪ সালে লোকমান উদ্দিন চৌধুরী ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। দায়িত্ব পালন করেন কলেজ ছাত্রলীগের এ জি এস হিসেবে। ১৯৭৯ সালে নৌকার প্রার্থী মাহতাব আহমদের নির্বাচনে একমাত্র ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৮০ সালে জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত এক দশক লোকমান উদ্দিন ছিলেন সিলেট জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯০ সালে উপজেলা নির্বাচনে মাসুক উদ্দিন আহমদের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী ছিলেন। দলের জন্য নিবেদিত লোকমান চৌধুরী ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃঢ়তা ও যোগ্যতার সঙ্গে হাফিজ আহমদ মজুমদারের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। 

শিক্ষানুরাগী লোকমান চৌধুরী বর্তমানে জকিগঞ্জের গণিপুর কামালগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, ইমদাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতন, আব্দুল আজিজ গার্লস স্কুলে সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি হাফিজ মজুমদার ট্রাস্টের সঙ্গে জড়িত। ২০০২ সাল থেকে তিনি হাফিজ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ঈর্ষণীয় সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন স্কলার্স হোম সিলেটের ৬টি শাখা। শিক্ষাপাগল লোকমান উদ্দিন চৌধুরী জাফলং ভেলী বোর্ডিং স্কুলের অন্যতম পরিচালক। সিলেট ফিশারী লিমিটেডের স্বত্ত্বাধিকারী লোকমান চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন হাজী হাকিব আলী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মনসুর উদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া জকিগঞ্জের ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তিনি বরাবরই পাশে ছিলেন আয়োজকদের।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী লোকমান উদ্দিন চৌধুরীর কাছে সুষম উন্নয়ন ও আলোকিত জকিগঞ্জ প্রত্যাশা করেছেন সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরী।

জকিগঞ্জ পৌরসভা আল ইসলাহর সভাপতি কাজী হিফজুর রহমান বলেন, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিষদ সুসমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার, হাওর উন্নয়ন, নদী ভাঙনরোধসহ সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী।

সাবেক মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক বলেন, কাজ করতে হলে ইচ্ছা লাগে, সুযোগ লাগে। লোকমান চৌধুরী সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের আশা পূরণে কাজ করবেন এটাই প্রত্যাশা। জকিগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী শামসুদ্দিন বলেন, নির্বাচনী প্রচারে আমাদের প্রতিশ্রুতিই ছিল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। আশা করি মানুষ বঞ্চিত হবে না। গত টার্মে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও এমপি কেউ আওয়ামী লীগের ছিলেন না। এবার যেহেতু সবাই দলীয় তাই মানুষ বেশি উন্নয়ন চাইবে এটাই স্বাভাবিক। 

জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী উপজেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সকলের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষা হচ্ছে উন্নয়নে সিঁড়ি। তাই এ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। সর্বাগ্রে জকিগঞ্জের ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বল্পতা দূরীকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিদ্যালয় সুষ্ঠু পরিচালনার প্রতি নজর দেব। গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, নতুন রাস্তা নির্মাণ, সুরমা কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধ, হাওরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোর সমস্যা সমাধান ও সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে।

মন্তব্য