kalerkantho

ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলিতে নিহতের ঘটনায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ক্ষতিপূরণ চেয়ে দোষীদের বিচারের দাবি আহতদের

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি    

২০ মার্চ, ২০১৯ ২২:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলিতে নিহতের ঘটনায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ঠাকুরগাঁও হরিপুরের বহরমপুরে গরু জব্দকে কেন্দ্র করে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে তিনজন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থল বহরমপুরে বিজিবির গুলিতে ১৮ জন আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ জনের সাথে কথা বলেন এবং লিখিত ও বক্তব্য রেকর্ডের মাধ্যমে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

গুলিতে আহত বহরমপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি জইবন বেগম জানান, রাস্তায় বিজিবি ও গ্রামবাসীর হট্টোগোল দেখে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে ঘটনাস্থলে যান। আর তখনি এলো পাথারি গুলির শব্দে পালাতে শুরু করলে তার পেছন দিকে কোমরের নিচে গুলি ঢুকে সামনে দিয়ে বের হয়ে যায়। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে প্রতিবেশীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ২৪ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে অসেন তিনি। কিন্তু এখনো তিনি নিজে চলা ফেরা করতে পারেন না।

একই গ্রামের আরেক ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি তৈমুর রহমান জানান, তিনি অটো চার্জারে করে যাদুরাণী বাজারে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থল তেকে তিনি প্রায় পঞ্চাশ গজ দূরে ছিলেন। হঠাৎ করে গুলির শব্দে তিনি অটো থেকে নেমে দৌড়াতে গেলে তার ডান পায়ে গুলি লাগে। বর্তমানে তিনি পঙ্গু, একাই চলাফেরা করতে পারছেন না।

তিনি আরো জানান, ঘটনার একমাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও বিজিবি ও সরকারের পক্ষ থেকে কেউই তাদের খোঁজ খবর নেয়নি। সুচিকিৎসার জন্য কোনো অর্থনৈতিক সহযোগিতাও করা হয়নি। নিজ খরচে তারা নিজেদের চিকিৎসা করাচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা ক্ষতিপূরণ ও সুবিচার চান সরকারের কাছে। একই কথা জানান, ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ গুলিবিদ্ধ এসার উদ্দীন, রাসেল,আসিরুল, নুরন্নাহানসহ বেশ কয়েকজন।

তদন্ত কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব জাকির হোসেন জানান, তদন্ত চলমান রয়েছে। সে সময় ঘটনায় আহত থাকার কারণে তাদের সাক্ষ্য প্রমাণ ও জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এখন আহতদের সাক্ষ্য প্রমাণ ও জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে বেতনা ক্যাম্পের বিজিবির ছোঁড়া গুলিতে তিনজন বাংলাদেশি নিহত ও আহত হয় আঠারো জন। এঘটনায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নিহত তিন পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা। আর ১৫ ফেব্রুয়ারি নিতহ দুই ব্যক্তিসহ ১৯ জনের নাম উল্ল্যেখ করে অজ্ঞাত আরো দুইশত পঞ্চাশ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হরিপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন ৫০ বিজিবির নায়েব সুবেদার জিয়াউর রহমান।

১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নূর কুতুবুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ২৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হরিপুর আমলী আদালতে বিজিবির বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন।

১লা মার্চ ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি। আর ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থেকে কোনো সহযোগীতা করেনি বিজিবি ও প্রশাসন।

মন্তব্য