kalerkantho

কোটচাঁদপুরে সরকারি ভাতা প্রদানে মেম্বারের অর্থ গ্রহণের অভিযোগ

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৯ ১৮:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোটচাঁদপুরে সরকারি ভাতা প্রদানে মেম্বারের অর্থ গ্রহণের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ১ নম্বর সাবদালপুর ইউনিয়নের মেম্বার আয়ুব হোসেন খানের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও রাস্তা নির্মাণের কথা বলে টাকা হাতানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা জানতে বুধবার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীকুণ্ডু গ্রামে সরেজমিনে গেলে বেশ কয়েক জনের সাথে কথা হয় কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের। 

ওই গ্রামের লস্কর পাড়ার মণ্টু লস্করের স্ত্রী রেক্সনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ১০ মাস আগে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে খরচের জন্য আয়ুব মেম্বার ১ হাজার টাকা নেন। টাকা দেওয়ার ২ মাস পরে সিজারের মাধ্যমে কোটচাঁদপুর একটি ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দেন রেক্সনা খাতুন। তিনি ক্লিনিক থেকে বাড়িতে আসার পর পরই ভাতার টাকা বেশি করে দেওয়া হবে বলে আয়ুব মেম্বার পুনরায় আড়াই হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। বর্তমানে তার কোলের সন্তানের বয়স ৮ মাস। এখনো তিনি মাতৃত্বকালীন কার্ড বা ভাতার টাকা পাননি। 

খান পাড়ার সাইদুল খান বলেন, আমার স্ত্রী তানিয়া খাতুনের মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড ও ভাতা বাবদ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার নাম করে আয়ুব মেম্বার আমার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেন। এই ৩ হাজার টাকা ইউএনও অফিসের খরচ দিতে হবে বলে তিনি জানান। সাইদুল খান বলেন, আমি দিনমজুর বড় কষ্টে যোগাড় করে ৩ হাজার টাকা আয়ুব মেম্বারকে দিয়ে ছিলাম কিন্তু ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও ভাতার কার্ড বা টাকা কোনোটাই পাইনি। এখন তিনি বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখাচ্ছেন। 

ওই গ্রামের লস্কর পাড়ার সানা লস্করের ছেলে আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, তার মা জরিনা বেগমের বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আয়ুব হোসেন মেম্বার ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু মা বয়স্ক ভাতার কার্ড পাননি। তিনি আরো অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, মন্ডল পাড়ার মকচ্ছেদ মন্ডলের বাড়ির সামনের রাস্তা করে দেওয়া বাবদ আয়ুব মেম্বার ১২ হাজার টাকা অর্থ সুবিধা নিয়েছেন মকচ্ছেদ মন্ডলের কাছ থেকে। তবে এ প্রতিবেদক এ অর্থ সুবিধার বিষয়টির সত্যতা জানতে মকচ্ছেদ মন্ডলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এদিকে ওই ওয়ার্ডের দক্ষিণ মন্ডল পাড়ার ৮০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, তাকে একজন মৃত ব্যক্তির পরিবর্তে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয় আয়ুব মেম্বার। এ ক্ষেত্রে কার্ড দেওয়ার আগেই আয়ুব মেম্বারের আশীর্বাদপুষ্ট দালাল লিটনের হাতে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাকে। 

এমন বিস্তর অভিযোগ রয়েছে আয়ুব মেম্বারের বিরুদ্ধে। ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধিকাংশ বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ভিজিএফ কার্ডধারীদের নিকট থেকে আয়ুব হোসেন মেম্বার নিজে ও দালালদের মাধ্যমে অর্থ সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভূক্তভোগী কার্ডধারীরা মুখ খুলছেন না। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের এমন মহতি উদ্দ্যোগ এ ধরনের দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের জন্য ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এ অর্থ কোন কোন খাতে যাচ্ছে কে কে এ অর্থের সুবিধা নিচ্ছে বের করে উপযুক্ত শাস্তির দাবী করেন তারা।

এদিকে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে এ প্রতিবেদক কোটচাঁদপুর শহরে ফিরে এলে আয়ুব মেম্বার নিজেই মোবাইলে ফোন করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি মহল তাকে হেয় করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

বিষয়টি নিয়ে সাবদালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নওশের আলী নাছিরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার মাতৃত্বকালীন ভাতা বা বয়স্ক ভাতা দেয়নি আয়ুব মেম্বার এ টাকা কি ভাবে নেয়। আপনাদের কাছে অভিযোগ আসতে পারে তবে আমার এ বিষয়ে জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, কিছু দিন আগে মৌখিকভাবে এমন অভিযোগ শুনেছিলাম। এ অভিযোগের বিষয়টি চেয়ারম্যান সাহেবকে বলেছিলাম তিনি এমন অভিযোগ মিথ্যা বলেছেন। তারপরও আমি আয়ুব হোসেন খান মেম্বারকে সতর্ক করে দিয়েছি। এমন অভিযোগ যদি আপনাদের কাছে এসে থাকে তাহলে আমার (ইউএনও) কাছেও দিতে বলুন, আমি ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য