kalerkantho

চৌগাছায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ২২:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চৌগাছায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগ

যশোরের চৌগাছায় এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান আলীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আটকে রাখে ও এ ঘটনায় স্কুল প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ করে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রধান শিক্ষকের কাছে সকালে প্রাইভেট পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তাদের সাথে কুরুচিপূর্ণ কথা ও গায়ের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মান সম্মানের ভয়ে তারা এ কথা কাউকে বলতে পারেনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে টিফিনের সময় এক ছাত্রীকে তার কক্ষে ডাকেন। স্যারের কথা মত ওই ছাত্রী তার কক্ষে প্রবেশ করলে প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এতে ওই শিক্ষার্থী চিৎকার দিয়ে ও প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসে।

ঘটনাটি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে জানাজানি হলে তারা প্রধান শিক্ষকের সঠিক বিচারের দাবি করে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে ছাত্রছাত্রীরা জানান। প্রধান শিক্ষককে আইনের আওতায় না এনে তাকে ছেড়ে দেওয়ায় এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক মামা বলেন, শিক্ষক হলো পিতাসম। আজ আমাদের মেয়েরা শিক্ষকদের কাছে নিরাপদ না। তা হলে আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কোথায় পাঠাচ্ছি। তিনি এ বিষয়ে সঠিক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান আলীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ছাত্রীরা আমার সামনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনাটি বলেছি। ছাত্রীদের অভিযোগ শুনে আমার মনে হয়েছে ঘটনাটি সত্য।

এ বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ছাত্রীর অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দেবে বলে আমি শুনছি। অভিযোগটি পেলেই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য