kalerkantho

রঙিন বিদ্যালয় তবু ঝুঁকি নিয়ে লেখাপড়া

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ১৩:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রঙিন বিদ্যালয় তবু ঝুঁকি নিয়ে লেখাপড়া

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দারিদ্র্যক্লিষ্ট, অজ পল্লীর কোমলমতি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কাছে লেখাপড়াকে আকর্ষণীয় ও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পুরো বিদ্যালয়কেই লাল সবুজের রঙে রাঙিয়ে তুলেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুশল আহমেদ রনি। শুধু লাল-সবুজের রঙে রাঙানোই নয় ভবনের প্রতিটি দেয়ালে, পিলারে পাঠ্যভুক্ত বর্ণমালা, ছবি এঁকে মনোমুগ্ধকর ও পরিবেশকে প্রাণবন্ত করেছেন। উপজেলায় এটিই প্রথম সম্পূর্ণ রঙিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির নাম বামুনখালী পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে সরকারি অনুদান বা একক কোনো ব্যক্তির টাকায় নয় তিনি নিজেসহ এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তায় এ চমৎকার উদ্যোগটি তিনি বাস্তবায়ন করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার পাগলা থানাধীন টাঙ্গাব ইউনিয়নের বামুনখালী গ্রামের জনৈক আব্দুর রহমান ওরফে রইছ উদ্দিন জমি দান করায় ২০০০ সালে লুত্ফর রহমান জুয়েল বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২২ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে একতলা একটি ভবন নির্মিত হলেও বিদ্যালয়ের সামনের ছোট মাঠটি বেশ গর্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার কোনো সুযোগ নেই। বর্ষাকালে মাঠের গর্তে পানি জমে পুকুরের মতো হয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থীরা বড়দের সহায়তা ছাড়া বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারে না। মাঠে গর্ত থাকায় বিদ্যালয়ে প্রবেশের সিঁড়ি ধসে গেছে। ভবনের সম্মুখে স্থাপিত শহীদ মিনারের কাঠামোটিও যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণিকক্ষের ভেতর প্রায় বন্দি হয়ে লেখাপড়া করতে হয়। এতে যেমন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায় তেমনি শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী ও মন মরা হয়ে থাকে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই শিক্ষা কর্মকর্তা কুশল আহমেদ রনি বিদ্যালয়টিকে লাল সবুজের রঙে রাঙিয়ে পাঠ্যভুক্ত বর্ণমালাসহ বিভিন্ন চিত্র অঙ্কন করিয়েছেন। যাতে বিদ্যালয়ের পরিবেশটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

বামুনখালী পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, রনি স্যার অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে সকলের সহায়তায় বিদ্যালয়টি লাল-সবুজ পতাকার রঙে রাঙিয়ে বর্ণমালা, ছবি আঁকার ব্যবস্থা করেছেন। এতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে ও মন মরা ভাবও কেটে যাচ্ছে। 

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুশল আহমেদ রনি বলেন, এখানে যোগদান করার পর এই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করতে এসে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেমন কম ছিল তেমনি শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী ও মন মরা হয়ে থাকত। খেলার মাঠ-ও নাই যে বাচ্চারা খেলাধুলা করে মন ভালো করবে। এ অবস্থায় 'দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো'র মতোই বিদ্যালয়ের ভেতরের পরিবেশকে সুন্দর, সহনীয় ও প্রাণবন্ত করার জন্যই পুরো বিদ্যালয়কে লাল-সবুজের রঙে রাঙিয়ে বর্ণমালা, ছবি আঁকার ব্যবস্থা করেছি। এখন শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসি-আনন্দের সাথে লেখাপড়া করছে।

তিনি আরো বলেন, মহিলা অভিভাবকরা আমাকে কথা দিয়েছেন আগামী শুক্রবার তারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নিজেরা বাইরে থেকে মাটি এনে সামনের ছোট মাঠটি ভরে দেবেন। এতে বাচ্চারা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাও করতে পারবে।

মন্তব্য