kalerkantho

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে

শিক্ষার্থীরা হাত লাগাল সেতু সংস্কারে

বরিশাল অফিস   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৪:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থীরা হাত লাগাল সেতু সংস্কারে

নড়বড়ে সেতু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক শিক্ষকের পোস্ট নিয়ে তুমুল আলোচনার ঝড় বইতে থাকে। সেই ঝড়ের আঁচ গিয়ে ছাত্রদের হৃদয় স্পর্শ করে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেয় স্বেচ্ছাশ্রমে সেতু সংস্কারের। তাদেও সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্কুল পরিচালনা পর্যদকে অবহিত করে তারা। পরে পরিচালনা কমিটি আর শিক্ষার্থীরা মিলে সেতু সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিনে সেতু সংস্কার করা হয়।

ছবির মতো এই দৃশ্যটি বাস্তবে রূপ দিয়েছে বরিশাল বিভাগের মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় স্কুল 'কলসকাঠী বি এম (বর্দাকান্ত-মুক্তাকেশী) একাডেমি। বরিশালের বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নে ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়র শিক্ষার্থীরা জাতির জনকের জন্মদিনে স্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি সংস্কার করে। শুরুতেই শিক্ষার্থী প্রতি ১০ টাকা হারে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। এভাবে ৫০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার তুলে কাজ শুরু করা হয়। বাকি টাকা সেতুর আশপাশ এলাকা থেকে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়।

কাজ শুরুর পর শিক্ষক-অভিভাবক আর শিক্ষার্থীরা কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদারের কাছে তার বাসায় গিয়ে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন। চেয়ারম্যান পুরো কাজের তদারকি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি সংস্কারে পুরো খরচ বহনের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। একইসঙ্গে জাতির জনকের জন্মদিনে জনকল্যাণমূলক কাজটি শুরু করায় শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করান চেয়ারম্যান। তখন শিক্ষার্থীরা চেয়ারম্যানের কাছে আসছে ২৬ মার্চ কলসকাঠী বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকরণ কর্মসূচির বিষয়টি অবহিত করেন। চেয়ারম্যান ওই দিন নিজে উপস্থিত থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি উদ্বোধনের আশ্বাস দেন।"

দশম শ্রেণির ছাত্র রাফিজুলের নেতৃত্বে সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি ওই সেতু ধরে মামার বাড়ি যাচ্ছিলাম। সেতুর পাটাতন না থাকায় সেই ফাঁকে পড়ে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছি। পরে শুনেছি ওই সেতু ধরে চলাচলকারীরা প্রতিনিয়ত ছোট ছোট দুর্ঘটনায় পড়ে। আমাদের স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক সৈয়দ লোকমান হোসেন স্যার সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে ছিলেন। তা দেখেই আমরা শিক্ষার্থীদের একত্রিত করি সেতু সংস্কারের জন্য। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার পাল বলেন, ওই সেতু ধরেই আমি প্রতিদিন স্কুলে আসি। সেতুর পাটাতন নষ্ট হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরাও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। পরে তারাই উদ্যোগ নিয়ে সেতু সংস্কারের কাজ শুরু করে। চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার সংস্কারের পুরো অর্থ বরাদ্দের কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে এই মহৎ কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে কিছু হবে না- এমনটি যারা বলতেন তারা এসে দেখে যান আগামীর প্রজন্ম পিছিয়ে নেই। তারাও পারে, সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে তা আবার প্রমাণ দিল। আগামী ২৬ মার্চ তারাই বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান পরিচালনা করবে। 

কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার বলেন, যে কাজটি জনপ্রতিনিধিদের, সেটি শিক্ষার্থীরা করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এর জন্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক আর অভিভাবকদেও ধন্যবাদ জানাই। আগামীতেও শিক্ষার্থীরা এই ধরনের সামাজিক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

মন্তব্য