kalerkantho


সভাপতি সাদেকুর রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা, চাঁদাবাজি ও সমান্তরাল এমপি ভাবাসহ কমিটি কুক্ষিগত করে রাখার প্রতিবাদে

সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের ১০ সদস্যের পদত্যাগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:২৪



সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের ১০ সদস্যের পদত্যাগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের সভাপতি সাদেকুর রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা, চাঁদাবাজি ও সমান্তরাল এমপি ভাবাসহ কমিটি কুক্ষিগত করে রাখার প্রতিবাদে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক সমন্বয় কমিটি বা সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগ কমিটির ১০ জনই পদত্যাগ করেছেন। গত দুইদিনে ১০ সদস্য তাদের পদত্যাগপত্র অফিস সচিব ও সভাপতির কাছে জমা দেন।

পদত্যাগকারীরা হলেন, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, অর্থ সম্পাদক একরামুল হক, প্রচার সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম মুনু, দপ্তর সম্পাদক আইনুল হক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আয়েস উদ্দিন, আইন সম্পাদক সোহেল রানা, সদস্য খাদেমূল ইসলাম, এনামূল হক, নুরুল ইসলাম বিহারী ও গোলাম মুর্শেদ। পদত্যাগী কয়েকজন সদস্য ১০ জন পদত্যাগের কথা স্বীকার করেন। অন্য দিকে চলতি মাসে র‌্যাবের হাতে আটক হন সাধারণ সম্পাদক সেনাউল ইসলাম।

পদত্যাগী সদস্যের মধ্যে কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ এ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নিজেকে সমান্তরাল এমপি ভাবাসহ স্বেচ্ছাচারিতা ও চাঁদাবাজি যেকোনো সময়ের রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন সাবেক এমপি গোলাম রাব্বানীর পৃষ্টপোষকতা পাওয়ার কারণে। গত নভেম্বর থেকে ডা. সামিল উদ্দিন শিমূল নৌকার মনোনয়ন পাওয়া সম্ভাবনা বাড়তে থাকায় রাব্বানীকে দূরে ঠেলে বরাবরের মতোই ভোল পাল্টিয়ে শিমুলের আস্থাভাজন হবার চেষ্টা করতে থাকেন বন্দর শ্রমিকলীগের এই সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার।

পদত্যাগ করা আয়েস উদ্দিনসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো দুই জন সদস্য জানান, সমন্বয় থেকে প্রতি মাসে সাবেক এমপিকে মাসে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দেওয়া হতো এরপর তা বাড়াতে বাড়াতে দাঁড়াই ১০ লক্ষতে। যা হ্যান্ডেলিং করতো সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার নিজেই। আদো রাব্বানী টাকা পেত কিনা জানা নেই।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার এমপি রাব্বানীকে মাসে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা প্রদানের কথা স্বীকার করে জানান, ৯ জন সদস্য পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন পারিবারিক ও শারিরিক সমস্যা থাকার কথা উল্লেখ করে।

সাবেক এমপির প্রশ্রয়ে থাকা সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগের সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার শ্রমিকদের পাওয়া বকসিস, ভারতীয় দুই শতাধীক ও বাংলাদেশের তিন শতাধীক ট্রাক থেকে দিনে লক্ষাধীক টাকা চাঁদা উত্তোলনের মূল হোতা। ২০১৪ সালে সাদেকুর রহমান‘র হাত ঘুরে সাবেক এমপির লোকজনের কাছে ভারতীয় প্রায় এক শ পিস্তল রিভলভার হস্তান্তর হয় বলে চরম অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজেকে সমান্তরাল এমপি ভাবা সাদেকুর রহমান এর প্রভাব ঠেকানো, চাঁদা আদায়ের টাকা ভাগবাটোয়ারা ও কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বে সাদিকুর রহমান মাস্টার প্রতিপক্ষের ঝুরিকাঘাতে গত ১৩ ডিসেম্বর মারাত্মক আহত হন।

ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বিভিন্ন পণ্য ভর্তি ট্রাক আসে দিনে অন্তত ২৫০টি। আর বাংলাদেশের প্রায় ৩০০টি। এই সাড়ে ৫০০ ট্রাক থেকে হয় লোড আনলোড। বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ টি ট্রাক লোড করার জন্য বন্দরে প্রবেশের সময় জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পাতা দিয়ে প্রতি ট্রাক থেকে সাদেকুর রহমান মাস্টারের নেতৃত্বে উত্তোলন করা হয় ৪৫০ টাকা করে। এখান থেকে আদায় হয় দিনে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। যা মাসে আদায় হয় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। এসব টাকা চলে যায় একভাগ জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নে, একভাগ এমপির নামে, একভাগ কয়েকজন শ্রমিক নেতা ও নিজের নামে। ভারত থেকে যেসব পণ্য বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে সেখান থেকে পণ্য ভেদে ৫০ থেকে ১০০ রুপী থেকে ৬৫০ রুপী পর্যন্ত (ফলের ট্রাক) করে দিনে আদায় হয় ২০/৩০ হাজার রুপী। ২০১৬ এর পর সাদেকুর রহমান মাস্টার, তার ছেলে সোহেল, জাকির ও সেনাউল মেম্বারের নিয়ন্ত্রণে এসব চলে আসছে। এ খাত থেকে আদায় হওয়া চাঁদার টাকা একভাগ গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নেন এমপি মো. গোলাম রাব্বানী, বাকী নিজেদের জন্য।

কস্টিক সোডা ও মসলা জাতীয় পণ্য ভর্তি বাংলা ট্রাক থেকে লেবার টোকেনের নাম দিয়ে প্রতি ট্রাক থেকে দিনে অন্তত ১৫/২০ ট্রাক থেকে আদায় করা হয় ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে ৬/১০ হাজার টাকা। এসব টাকা আদায় নিয়ন্ত্রণ চলে সাদেকুর মাস্টার এর নেতৃত্বে। সাদেকুর রহমান মাস্টার লেবার টোকেনের মাধ্যমে পানামার কাছে বিল বাবদ টাকা নেওয়া হয় এবং বন্দর অভ্যন্তরে ভারতীয় ট্রাক থেকে ৫০ থেকে ৬৫০ রুপী করে আদায় করে সিরিয়াল মাস্টাররা বলে জানান।



মন্তব্য