• ই-পেপার

মাগুরায় ৩ দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু

সুনামগঞ্জে চোরাচালান মামলার আসামি হলেন স্কুল কমিটির সভাপতি

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে চোরাচালান মামলার আসামি হলেন স্কুল কমিটির সভাপতি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপিত মো. সোহেল রানা।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটিতে চোরাচালান মামলায় জড়িত মো. সোহেল রানা নামে এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মো. সোহেল রানা বিজিবির দায়ের করা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এ পদে আসীন হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগসহ বিজিবির সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বিজিবি সদস্যদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। তাই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। 

 সোহেল রানা বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হযরত আলীর ছোট ভাই।

গুরুতর মামলার আসামী ও বিতর্কিত ব্যক্তি হওয়ার পরেও গত ২৮ এপ্রিল সোহেল রানাকে সভাপতি করে মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেয় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরে বিষয়টি সোহেল রানাসহ অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়ভাবে সমালোচনার ঝড় উঠে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রাম সংলগ্ন টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এ সংষর্ঘে বিজিবির একজন সদস্য আহত হয়। এর দুইদিন পর বিজিবির বাঙালভিটা বিওপির একজন সদস্য বাদি হয়ে সোহেল রানাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়। মো. সোহেল রানা এ মামলার ২৯ নম্বর আসামি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন নাগরিক জানান, সোহেল রানা একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং স্পর্শকাতর মামলার আসামী। এমন লোককে সভাপতি করা উচিত হয়নি। তাই তাকে পরিবর্তন করে দ্রুত যোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানাই।

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক ফকির বলেন, ‘সোহেল রানা এর আগেও আমাদের বিদ্যালয় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিল। এবারও তাকে সভাপতি করা হয়েছে। তবে সে কোনো মামলার আসামি কিনা এই বিষয়ে আমরা অবগত নই।’

অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘যে রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সেই রাতে আমি কলমাকান্দায় ছিলাম। পরে এলাকায় এসে জানতে পারি আমি এই মামলার আসামি। কিন্তু আমি এর সঙ্গে জড়িত না। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমাকে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে সুনামগঞ্জ বিজিবির সিও মধ্যনগর থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধ্যনগর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সোহেল রানা এ মামলার এজাহার নামীয় আসামি। সভাপতি হিসেবে ইউএনও কীভাবে তার নাম প্রস্তাব করলেন?

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে সাবেক ইউএনও কমিটি অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন। তাই বিষয়টি আমি জানিনা। তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কমিটি অনুমোদনকারী সিলেট মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে সভাপতির প্রস্তাব আসে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। তখন আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তাই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বউকে বাঁচাতে গেলেন শাশুড়ি, প্রাণ গেল দুজনেরই

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বউকে বাঁচাতে গেলেন শাশুড়ি, প্রাণ গেল দুজনেরই
প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বউ-শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের দুবাইপ্রবাসী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৩০) এবং খালেদার শাশুড়ি মেহেরা (৬০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরুকে খাবার দেওয়ার জন্য খালেদা গোয়ালঘরে যান। ঘরের দরজার সঙ্গে সংযুক্ত বিদ্যুতের তারের লিকেজের কারণে দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। দরজা খোলার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে শাশুড়ি মেহেরাও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং তাদের হাসপাতালে পাঠান। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বউ ও শাশুড়ি দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, স্ত্রী ও মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দুবাইপ্রবাসী জাহাঙ্গীর জরুরি ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দেশে পৌঁছানোর পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পতাকা বৈঠকেও হয়নি সমাধান

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে ২৮ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টাকৃত ২৮ জন শূন্যরেখা হতে ভারতের ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ মে) যে ২৮ ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী (বিএসএফ)। এখন তাঁরা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবারও ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতির খবর জানাননি অধিনায়ক।

অধিনায়ক আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ওই ঘটনায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট বিষয়টি তাঁদের ঊর্ধ্ব ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিজিবিকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএসএফ। এ অবস্থায় পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রয়েছে। পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মাইকিং করা হয়। জনগণকে সীমান্ত থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা ওই ২৮ জনকে বাংলাদেশিরা খাবার দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ তাঁদের খাবার দেয় বলে জানা গেছে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২০৩/৬ আর দিয়ে ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশুকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশ ইনের চেষ্টা করে‌। খবর পেয়ে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তের শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে জঙ্গলাকীর্ণ একটি এলাকায় অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে বাধা প্রদান করে। এ অবস্থায় গভীর রাত পর্যন্ত তারা মানবেতর অবস্থায় বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানায় বিজিবি।

অটোরিকশায় বজ্রাঘাতে বাবা-মেয়ের মৃত্যু

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
অটোরিকশায় বজ্রাঘাতে বাবা-মেয়ের মৃত্যু
ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় বজ্রাঘাতে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের মেরুয়াঘোনা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দেলদুয়ার সদর ইউনিয়নের মাদারকুল গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে খাদেমুল ইসলাম (৩২) এবং তার মেয়ে খাদিজা আক্তার (৯)।

স্বজনরা জানান, শুক্রবার দুপুরে খাদেমুল ইসলাম তার মেয়েকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে এক ভাগ্নীর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে মেরুয়াঘোনা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বজ্রপাত হলে অটোরিকশায় বসা অবস্থায় তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. স্বর্ণালী আক্তার রুম্পা জানান, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাবা ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মাগুরায় ৩ দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু | কালের কণ্ঠ