সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটিতে চোরাচালান মামলায় জড়িত মো. সোহেল রানা নামে এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মো. সোহেল রানা বিজিবির দায়ের করা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এ পদে আসীন হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগসহ বিজিবির সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বিজিবি সদস্যদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। তাই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সোহেল রানা বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হযরত আলীর ছোট ভাই।
গুরুতর মামলার আসামী ও বিতর্কিত ব্যক্তি হওয়ার পরেও গত ২৮ এপ্রিল সোহেল রানাকে সভাপতি করে মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেয় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরে বিষয়টি সোহেল রানাসহ অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়ভাবে সমালোচনার ঝড় উঠে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রাম সংলগ্ন টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এ সংষর্ঘে বিজিবির একজন সদস্য আহত হয়। এর দুইদিন পর বিজিবির বাঙালভিটা বিওপির একজন সদস্য বাদি হয়ে সোহেল রানাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়। মো. সোহেল রানা এ মামলার ২৯ নম্বর আসামি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন নাগরিক জানান, সোহেল রানা একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং স্পর্শকাতর মামলার আসামী। এমন লোককে সভাপতি করা উচিত হয়নি। তাই তাকে পরিবর্তন করে দ্রুত যোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানাই।
মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক ফকির বলেন, ‘সোহেল রানা এর আগেও আমাদের বিদ্যালয় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিল। এবারও তাকে সভাপতি করা হয়েছে। তবে সে কোনো মামলার আসামি কিনা এই বিষয়ে আমরা অবগত নই।’
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘যে রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সেই রাতে আমি কলমাকান্দায় ছিলাম। পরে এলাকায় এসে জানতে পারি আমি এই মামলার আসামি। কিন্তু আমি এর সঙ্গে জড়িত না। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমাকে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে সুনামগঞ্জ বিজিবির সিও মধ্যনগর থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধ্যনগর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সোহেল রানা এ মামলার এজাহার নামীয় আসামি। সভাপতি হিসেবে ইউএনও কীভাবে তার নাম প্রস্তাব করলেন?
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে সাবেক ইউএনও কমিটি অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন। তাই বিষয়টি আমি জানিনা। তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমিটি অনুমোদনকারী সিলেট মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে সভাপতির প্রস্তাব আসে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। তখন আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তাই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’




