kalerkantho


শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে চলছে চোরাচালান

রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী ( শেরপুর) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:২৯



শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তে চলছে চোরাচালান

ছবি : সম্প্রতি তোলা শ্রীবরদীর সীমান্ত এলাকায় গরু চোলাচালানের একটি দৃশ্য

শেরপুরের শ্রীবরদীর সীমান্ত দিয়ে আবারো শুরু হয়েছে চোরাচালান। বিজিবির হাতে গরু ও মাদকদ্রব্যসহ আটকও হচ্ছেন চোরাকারবারিরা। তবুও চলছে গরুসহ মাদকদ্রব্যের চোরাচালান। চোরাকারবারি ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। তবুও বন্ধ হচ্ছে না এ অবৈধ কারবার। এতে যেকোনা সময় ঘটতে পারে বড় সংঘর্ষের ঘটনা। এমনটাই আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সরেজমিন গেলে স্থানীয় লোকজন ও আইনশৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য। 

 

জানা যায়, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ও সিংগাবরনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা বাবেলাকোনা, চান্দাপাড়া, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা, মালাকোচা, বালিজুরি, খারামোরাসহ ১০টি গ্রাম ঘেঁষে আছে ভারতের সীমানা পিলারের জিরো পয়েন্ট। এসব সীমানায় রয়েছে গোলাকৃতির বড় কালভার্টের ফাঁক। আবার যেখানে কাঁটা তারের বেড়া শেষ সেখানের খোলা অংশ। অথবা জিরো পয়েন্টে ভারতীয় অংশের ব্রিজের নিচে খাল। এসব ফাঁকা খাল আর কালভার্ট ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা বিএসএফ ও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আনছে গরু ও মাদকদ্রব্য। প্রতি সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে বেচাকেনাও হচ্ছে ভারতীয় গরু। মাদক দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে গোপনে। তবে এসব চোরাকারবারির আধিপত্য নিয়ে নিয়ে চোরাকারবারিদের মধ্যেও রয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে গরু চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় আজির রহমান নামে এক মাদকসেবী। সে সার্বক্ষণিক মাদকদ্রব্য সেবন করেন বলে তথ্য রয়েছে। এ জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না বলে জানান এলাকার অনেকে। 

 

সূত্র জানান, চোরাকারবারিরা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠিয়ে এদেশে আনছে গরু। রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। তবুও থেমে থাকছে না চোরাই গরুর ব্যবসা। গরু চোলাচালান নিয়ে বিজিবি ও চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় বিজিবি চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মামলা মোকদ্দমায় কেউবা রয়েছেন এলাকাছাড়া। 

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিংগাবরনা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক মজনু বলেন ভারত থেকে চোরাইপথে গরু ও মাদকদ্রব্য আসছে। এলাকার কিছু লোক চোরাচালানির সাথে জড়িত। মাসিক সমন্বয় সভায় চোরাচালান রোধে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না বললেন এই চেয়ারম্যান। চোরাচালানি ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। চলতি মাসের উপজেলা পরিষদের সোমেশ্বরী হলরুমে মাসিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আহ্বান জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর। এ সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও বক্তব্যের এক পর্যায়ে উল্লেখ করেছেন থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রহুল আমিন তালুকদার। 

 



মন্তব্য