kalerkantho


বেনাপোলে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলন মেলা

‘দুই বাংলার মধ্যে কাঁটাতার চাই না’

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০৪:২৪



‘দুই বাংলার মধ্যে কাঁটাতার চাই না’

‘এক আকাশ, একই বাতাস; দুই বাংলার মানুষের ভাষা এক। এক নদী, একই জল। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। তাই বারবার ছুটে আসি বাংলাভাষী মানুষের পাশে। কাটাতারের বেড়া আমাদেরকে আটকাতে পারে, কিন্তু আবেগকে আটকাতে পারবে না। আগামীতে কোনো কাঁটাতারের বেড়া চাই না।’

এভাবেই বলছিলেন বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে আসা পশ্চিমবঙ্গের অতিথিরা। আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে আবারও এক হলো এপার-ওপার। কাঁটাতার ডিঙিয়ে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের সম্মিলিত শ্রদ্ধা জানাল ভারত-বাংলাদেশ। ভৌগলিক সীমারেখা ভুলে শুধু ভাষার টানে দুই বাংলার মানুষ একই মঞ্চে গাইলেন বাংলার জয়গান।

‘আমার প্রতিরোধ আমার সংগ্রাম আমার স্বাধীনতা আমার অধিকার আমার ৫২ আমার বর্নমালা’ এই  শ্লোগান সামনে রেখে দুই বাংলার একুশ উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যৌথভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে এবারও পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে শহীদ বেদি ঢেকে গেল ফুলের চাদরে।

মিষ্টি বিতরণ, আলোচনা আর গানে গানে মাতোয়ারা হলো দুই বাংলার মানুষ। উভয় দেশের জনপ্রতিনিধিরা বললেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির কথা। এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ। নেতাদের কণ্ঠে ছিল ভবিষ্যতে আরো বড় করে এক মঞ্চে একুশসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রত্যাশা। উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। দুই দেশের জাতীয় পতাকা, নানা রংয়ের ফেস্টুন, ব্যানার, প্লেকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা।  ফুলের মালা ও জাতীয় পতাকা বিনিময় করে উভয় দেশের আবেগপ্রবণ অনেক মানুষ বাঙালির নাড়ির টানে একজন অপরজনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। ক্ষণিকের জন্য হলেও সতব্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা।

এদিন সকাল ১১ টার দিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী শ্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক, বিধায়ক বিশ্বজিত দাস ও বনগাঁ পৌর মেয়র শংকর আঢ্যর নেতৃত্বে ভারত থেকে আসা শতশত বাংলাভাষী মানুষকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। নোমান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বনগাঁ লোকসভার সাংসদ শ্রীমত্যা মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি বীনা মন্ডল, বিধানসভা বিধায়ক বিশ্বজিত দাস ও বনগাঁও পৌর সভার মেয়র শংকর আঢ্য।

বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী, ৪৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর নজরুল ইসলাম, একুশ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান। 

ভাষা দিবসের মিলন মেলায় বিজিবি বিএসএফকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এর পর দুই দেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ যৌথভাবে দিবসটি পালন করে।

বেনাপোল একুশ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘আমি বাংলায় কথা বলি পুন:জন্মে আমি বাঙালি হয়ে জন্মাতে চাই।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য্য বলেন, দুই বাংলার মানুষ আজ এক হয়েছে। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন আমাদের অধিকার বোধের জম্ম দিয়েছিল।



মন্তব্য