kalerkantho


খাগড়াছড়ির রামগড়ে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:৫১



খাগড়াছড়ির রামগড়ে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ পরিবেশ আইনে পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাহাড় কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভূমিধসের আশঙ্কা করছেন রামগড়বাসী। 

অন্যদিকে, টপসয়েল কেটে অন্যত্র পাচার করায় আবাদী জমির উর্বরা শক্তি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন খাগড়াছড়ির সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেছেন, স্থানীয় কিছুসংখ্যক অসাধু ব্যক্তির ছত্রছায়াতেই এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কেটে বনভূমি ধ্বংস করার পাশাপাশি টপ সয়েল পাচার হচ্ছে। 

পরিবেশ বিধ্বংসী এসব বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর হতে বলেছেন। জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম ‘কালের কণ্ঠ’কে বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। পরিবেশ-প্রতিবেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ইউএনও কে বলবেন যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 

রামগড় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মাটি কাটার অপরাধে অংলা ছিনচুরি পাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি এক্সকেভেটর জব্দ করা হয়। ১৯, ফেব্রুয়ারি পাতাছড়া ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন টিলা কাটার সময় পুলিশি ধাওয়ায় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
   
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্ধা মো. ফারুকুর রহমান, মো.নজরুল, ইসমাইল মিয়া ও ইউনুছ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, আবুল কালাম ও হেলাল উদ্দিন গং পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন একটি টিলা কেটে সাবাড় করে ফেলেছে দুবৃর্ত্ত চক্রটি। পাহাড় কাটার ফলে নাকাপা এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের সঞ্চালন লাইনের বৈদ্যুতিক খুটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাডেবা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, স্কুলটিলা ও সোনাইআগা এলাকার টিলা ও জমি থেকে  মাটি কেটে নিচ্ছে একটি দুষ্ট চক্র। ইতোমধ্যে শতাধিক ট্রাক ভর্তি মাটি নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। 

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ জানান, টপসয়েল কেটে নেওয়ায় কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। টপ সয়েল তৈরিতে ৩০/৩৫ বছর সময় লাগে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



মন্তব্য