kalerkantho


উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

সিঙ্গাইরকে আধুনিক জনপদ গড়তে আ. লীগের মনোনয়ন চান ভিপি শহিদ

মোবারক হোসেন, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ)   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:১৩



সিঙ্গাইরকে আধুনিক জনপদ গড়তে আ. লীগের মনোনয়ন চান ভিপি শহিদ

ভিপি শহিদুর রহমান

আগামী ২৪ মার্চ সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই উপজেলাকে একটি আধুনিক উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নৌকা চান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভিপি শহিদুর রহমান। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে দলের শীর্ষ মহলে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি জনগণের কাছে তুলে ধরছেন বর্তমান সরকারের সাফল্য আর নিজের উন্নয়ন ভাবনার কথা। তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা তার উপর আস্থা রাখবেন। 

শহিদুর রহমান ১৯৭৪ সালে সিঙ্গাইর পৌরসভার আজিমপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. রশিদ খাঁন ও মাতা সুফিয়া রশিদ। স্কুল জীবনে তিনি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯৩ সালে সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও পরের বছর ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৯৫ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১০ সালে মানিকগঞ্জ জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ২০১৫ সালে সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হন শহিদুর রহমান।

ভিপি শহিদুর রহমান প্রথম ১৯৮৭ সালে স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে প্রথম গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তিনি ৩ মাস ১০ দিন কারাভোগ করেন। ১৯৯০ সালে এরশাদ পতন আন্দোলনে আবার গ্রেপ্তার হয়ে ৪ মাস জেলের ঘানি টানেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির জামায়াত জোটের শাসনামলে ৫ মাস ও ১৯৯৩ সালে ৩০ মাস ১৫ দিন কারাভোগ করেন। ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে ভোট ও ভাতের অধিকার আন্দোলনে রাজ পথ থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। ওই সময় ৪ মাস ১৫ দিন কারাভোগ করেন। এরপরও তিনি রাজনৈতিক মাঠ থেকে পিছু হটেননি। ১/১১ এর সেনা সমর্থিত সরকারের শাসনামলে কারান্তরীণ জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে ২ মাস কারাভোগ করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজু বলেন, শহিদুর রহমান আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ। দক্ষ সংগঠক ও সুবক্তা হিসেবে এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে তার। দলের দু:সময়ে জীবনবাজী রেখে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রীয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিমুক্ত করে সিঙ্গাইর উপজেলাকে একটি আধুনিক উন্নত জনপথ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। শহিদুর রহমান উপজেলা চেয়ারম্যান হলে দল শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

শহিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। দলের দুর্দিনে জীবনবাজী রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমার নামে ৩৮টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এসব মামলায় ৪২ মাস কারাভোগ করেছি। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা আমাকে ৫ বার ত্যার চেষ্টা করে। এরপরও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুতি হয়নি।

বিপদ-আপদে সব সময় এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম। দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার মানসে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছি। আশা করছি, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ত্যাগের মূল্যয়ন করবেন। চেয়ারম্যান হলে স্থানীয় এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে সিঙ্গাইর উপজেলাকে একটি উন্নত ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো।



মন্তব্য