kalerkantho


বাউরা পাবলিক দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়

পাটগ্রামে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:২৪



পাটগ্রামে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের বাউরা পাবলিক দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে এমনই নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ এলাকার অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে না করেই। মনগড়া মনোনীত প্রার্থী দিয়ে একের পর এক অ্যাডহক কমিটি গঠন। সামান্য ভুলের কারণে বিদ্যালয়ে ছাত্র পেটানো, সহকারী শিক্ষকের সাথে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যায়ের হিসাব নিয়ে মারামারি, মেধাবী ছাত্রকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করে দেওয়া, ছাত্রের ফরম পুরণে টাকা নিয়ে ফরম পুরণ না করানো, ভুয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে স্থানীয় ব্যাংকের জমা টাকার আয়-ব্যায়ের প্রতিবেদন না দেওয়া।

এ ছাড়াও নানান অভিযোগের পরও তিনি পার পাওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। অবশেষে ইউএনও অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সমন্বয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ের অনিয়মের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া।

এ অভিযোগ সম্পর্কে দাতা সদস্য প্রার্থী আবুল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান গত বছর ২৬ জুন নোটিশ প্রদান করেন যে, আজীবন দাতা সদস্য হওয়ার জন্য দুই লাখ ও এককালীন দাতা সদস্যের জন্য বিশ হাজার টাকা গত বছরের ১৫ জুলাই অথবা সরাসরি প্রধান শিক্ষকের নিকট স্থানীয় জনতা ব্যাংক শাখায় জমা করতে হবে। উক্ত নোটিশ অনুযায়ী ১৫ জুলাই জিয়াউর রহমান, আনারুল ইসলাম, বাদল হোসেনসহ (চার) জন প্রত্যেকে ২০,০০০/(বিশহাজার) টাকা এককালীন দাতা সদস্য হওয়ার জন্য ব্যাংকে জমা প্রদান করি। উক্ত রশিদ প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করি। তার নোটিশ অনুযায়ী আমরা (চার) জন টাকা প্রদান করলে ও তিনি তার মনোনীত প্রার্থীকে দাতা সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন।

তাছাড়াও বিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে জমাকৃত টাকাপয়সা ব্যাংকে জমা রাখেন। কিন্তু ব্যাংক হতে উত্তোলন করেন। তা আয় ও হিসাবের প্রতিবেদন কখনো কাউকে দেখান না বা বিদ্যালয়ের ব্যববস্থানা কমিটির বৈঠকে আলোচনায় বিষয়টি এড়িরে যান।

এ ছাড়া ও তিনি বিদ্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম করে চলেছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় দুইজন ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ তিনজন পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং তার মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দেন। দেশের বিভিন্ন দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ফলে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্তে অনিয়ম পাওয়ায় নিয়োগ বাতিল করেন।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।



মন্তব্য