kalerkantho


হাফিজ জিয়াউর রহমানের বিরল সততা

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি    

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:৪১



হাফিজ জিয়াউর রহমানের বিরল সততা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কুড়িয়ে পাওয়া ৭৮ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখলেন হাফিজ জিয়াউর রহমান। তিনি টাকাগুলো পাওয়ার পর এলাকায় মাইকিং করে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে শুক্রবার রাতে মূল মালিকের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন। হাফিজ জিয়াউর রহমান পাটলী ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মৃত আশিক আলীর ছেলে।

জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌরশহরের ৯নং ওয়ার্ডের শেরপুর এলাকার গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম শুক্রবার সকালে উপজেলার রসুলগঞ্জ বাজারে গরুর হাটে যান। হাট চলাকালে তার টাকা রাখার কাপড়ের ব্যাগ (থলি) হঠাৎ করে কোথায় যে পড়ে যায়। ওই দিন দুপুরের দিকে রসুলগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে টাকাগুলো কুড়িয়ে পান হাফিজ জিয়াউর রহমান। টাকা পাওয়ার পর তিনি রসুলগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রচারণা চালান যে, কিছু টাকা পাওয়া গেছে। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হবে। দ্রুত যোগাযোগের জন্য আহ্বান করা হয়।

এ খবর পেয়ে টাকার প্রকৃত মালিক আব্দুর রহিম ও জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেরপুর এলাকার বাসিন্দা লুৎফুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাতেই কবিরপুর গ্রামে যান। প্রমাণ সাপেক্ষে পাটলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কবিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আঙ্গুর মিয়ার উপস্থিতিতে টাকাগুলো মালিকের নিকট হস্তান্তর করেন।

শেরপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, টাকাগুলো হারিয়ে পাগল প্রায়। এখনও ভালো মানুষ সমাজে আছে। তার দৃষ্টান্ত হাফিজ জিয়াউর রহমান। উনার নিকট আমি চিরকৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, হাটে থাকাবস্থায় কোমরে থাকা টাকার থলিতে মোট ৭৮ হাজার টাকা রক্ষিত ছিল। ১০টি ৫ শত টাকা নোট ও ৭৩টি ১ হাজার টাকার নোট ছিল।

পাটলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঙ্গর মিয়া ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান বলেন, হাফিজ জিয়াউল রহমান সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। কুড়িয়ে পাওয়া টাকাগুলো ফিরিয়ে দিতে তিনি বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে প্রচারণা চালান। সতিই এটি বিরল ঘটনা। 



মন্তব্য