kalerkantho


ভোলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে জোর করে বিয়ে পড়ালেন কাজী!

ভোলা প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:২৩



ভোলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে জোর করে বিয়ে পড়ালেন কাজী!

ভোলায় অপহৃত এসএসসি পরীক্ষার্থীকে জোর করে বিয়ে পড়ানো অভিযোগ উঠেছে এক কাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরীক্ষা দিতে পারেনি চারজন এসএসসি পরীক্ষার্থী। তারা হলেন তামান্না আকতার, নূরনবী ও তাদের দুই বান্ধবী সেতু ও সানজিদা।

এমন ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে। তা নিয়ে চলছে এলাকায় তুলকালাম। এ সকল ছাত্র-ছাত্রীরা ভেলমিয়া উইনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ কো অপরাটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। কাজী মো. ইউনূছ এ বিয়ে পড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাইলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক বলে জানা যায়।

তবে এ বিয়ের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ছেলের আত্মীয় নান্টু মোল্লার হাত ছিলো বলে পুলিশ তাদেরকে আটক করেনি, তাই এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি বলে জানান অপহৃত মেয়ের মা নারগিছ বেগম। অপহৃত মামলার অন্য আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশের নাটকীয় ভূমিকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মেয়ের মা।

অপহৃত মেয়ের মায়ের ভাষ্য মতে, এসএসসি পরীক্ষার্থী তামান্নাকে ২১শে জানুয়ারি বিকেলে কোচিং শেষে বাড়িতে ফেরার পথে অপহরণ করে নিয়ে যায় নূরনবী, সেতু ও সানজিদাসহ আরো অনেকে। অনেকদিন হলেও পুলিশ আমার মেয়ের কোনো খোঁজ দিতে পারেনি বলে তিনি জানান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী তামান্না আকতার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদ মোল্লার মেয়ে। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন কোচিংয়ে আসলেও আর সেদিন বাড়িতে ফিরে আসেনি। চারোপাশে খোঁজা-খুঁজির পর জানতে পারেন তাদের মেয়ে তামান্নাকে নূরনবী, মিতু, সানজিদাসহ কয়েক জন অপহরণ করে নিয়ে যায় বাড়ি ফেরার পথে। কিছু কূল কিনারা না পেয়ে পরিবারটি যায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে। পরে ২৬ শে জানুয়ারি ভোলা সদর থানায় ৭৫/৭৫ একটি অপহরণ মামলা করেন মেয়ের মা নারগিছ বেগম। এতে ৫ জনকে আসমি করে ও ২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে। মামলার তদন্তের ভার দেওয়া হয় ভেলুমিয়া ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. গোলাম মাওলার কাছে। তবে পুলিশ আসামি কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এলাকাবাসী জানান, যদি পুলিশ এক সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে আটক করতে পারতো তা হলে এ চারটি ছেলে ও মেয়ের পরীক্ষা দেওয়া হতো। একটি কারণে চারটি জীবন নষ্ট হয়ে গেলো। এ বিষয়ে প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

অপহৃত মেয়ের মা নারগিছ বেগম বলেন, আমার মেয়ে বেঁচে আছে কিনা তাই আমরা জানি না। পুলিশ আমাদেরকে কোনো তথ্য এখনো দিতে পারছে না। তবে জেনেছি আমার মেয়েকে পাশের ইউনিয়ন দক্ষিণ দিঘলদীর নান্টু মোল্লার বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে এক স্কুল মাস্টার কাজী মো. ইউনূছ আমার মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে পড়িয়ে দেন অপহৃত ছেলে নূরনবীর সাথে। নূরনবীর বড় ভাই আমাদেরকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন অপহরণ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে ভেলুমিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কর্তবরত এসআই মো. গোলাম মাওলা জানান, আমাদের আসামি গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের কোনো তথ্য পাচ্ছি না তাই আটক করতে পারিনি।

কাজী মো. ইউনূছ বলেন, আমি শুনেছি একটি ছেলে ও মেয়ের শান্তীরহাট এলাকায় বিয়ে হয়েছে। তবে তিনি বিয়ে পড়াননি বলে দাবি করেন। এলাকাবাসী জানান, এ কাজী মো. ইউনূছ এ রকম কাজ এর আগেও অনেকবার করেছে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। তবে কাজী যদি বিয়ে পড়ায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য