• ই-পেপার

নাম বিকৃতভাবে উচ্চারণের প্রতিবাদে মা-ছেলেকে পিটিয়ে আহত

শাহ আমানত সেতুতে উল্টো পথে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

সুমন শাহ, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)
শাহ আমানত সেতুতে উল্টো পথে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতুতে উল্টো পথে চলছে অটোরিকশা। ছবি : কালের কণ্ঠ।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার শাহ আমানত সেতুতে উল্টো পথে অটোরিকশা চলাচল উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত বিপরীতমুখী লেনে অসংখ্য অটোরিকশা ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলাচল করছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, ‘উল্টো পথে চলাচলকারী অটোরিকশাগুলো প্রায়ই মোটরসাইকেল,প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। অনেক সময় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

নগরীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের অভাবে চালকদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়েছে।’

নিয়মিত মোটরসাইকেলে যাতায়াতকারী সৌরভ দাস বলেন, ‘শাহ আমানত সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উল্টো পথে যান চলাচল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছুদিন আগে সেতুর ওপর এক বাবা ও ছেলে প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা চাই না এমন মর্মান্তিক ঘটনা আবার ঘটুক। তাই আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ‘

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শাহ আমানত সেতু এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযান, সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে উল্টো পথে যান চলাচল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকার বলেন, ‘শাহ আমানত সেতুতে উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। তবে অনেক চালক ফাঁকি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করেন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুই সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশ ইনের শিকার তিন যুবক

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
দুই সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশ ইনের শিকার তিন যুবক
ছবি : কালের কণ্ঠ

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় টানা ১৪ দিন ধরে আটকে আছেন তিন যুবক। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তে অনিশ্চয়তা ও মানবেতর পরিবেশে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভন্দুরচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৬ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় ওই তিন যুবক অবস্থান করছেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝখানে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় আটকে রয়েছেন।

আটকে থাকা তিনজন হলেন দেশের সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওই এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বসতি নেই। খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই তাদের দিন-রাত কাটছে। নিরাপদ আশ্রয় বা মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

ভন্দুরচর এলাকার বাসিন্দা আলতাফ আলী বলেন, ‘এ পরিস্থিতি শুধু ওই তিন যুবকের জন্যই নয়, সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের জন্যও একটি অস্বস্তিকর মানবিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। দুই বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে সতর্ক থাকলেও মাঝখানে আটকে থাকা তিনজনের দুর্ভোগ বাড়ছে।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রাকিব বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। কাপড়-চোপড় ভিজে যায়। রাতে ভেজা কাপড় পরেই থাকতে হয়।’

এ বিষয়ে জানতে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

দুই সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা তিন যুবক কবে স্বজনদের কাছে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সমাধানের ইঙ্গিত মেলেনি। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের প্রতীক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ আটক ২, নিহত ১

মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ আটক ২, নিহত ১
সংগৃহীত ছবি

সুন্দরবনের গহীনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধানসহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা অবস্থান করছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে টানা দুই দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে ডাকাতদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেন। তবে সংকেত অমান্য করে ডাকাতরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির সময় ডাকাতদের একটি বোটে আগুন ধরে যায় এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়। এ সময় কোস্ট গার্ড ২১৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ফায়ার করে।

বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং ডাকাত শওকত সরদারকে (৫৫) উদ্ধার করে আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গুরুতর আহত রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া অন্য ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরেক ডাকাতকে আটক করা হয়। পরে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদার খুলনার কয়রা উপজেলার এবং ইসরাফিল হাওলাদার সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

অভিযান শেষে সুন্দরবনের আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা ও ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সিরাজগঞ্জ

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত তাঁতশিল্প, সড়কে মালিক-শ্রমিক

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত তাঁতশিল্প, সড়কে মালিক-শ্রমিক
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে শনিবার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের  প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা। এ সময় তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হবে ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে সমাবেশ শেষ করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তাঁতকলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায়  বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাঁতকল। এতে মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং কমে যাচ্ছে শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রও।

সমাবেশে পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকার তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মো. মোত্তাকি বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁতকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো অর্ডারের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মালিক-শ্রমিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যায় শুধু তাঁতকল নয়, সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ভূঁইয়াগাঁতী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নিজামুল ইসলাম বলেন, বিক্ষোভের সময় আমি কার্যালয়ে ছিলাম না। তবে বিক্ষোভকারী মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছি। তিনি বলেন, তাঁতকলের সংযোগ লাইনটি অনেক পুরনো হওয়ায় অধিকাংশ সময় নানা ত্রুটি দেখা দেয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।

নাম বিকৃতভাবে উচ্চারণের প্রতিবাদে মা-ছেলেকে পিটিয়ে আহত | কালের কণ্ঠ