kalerkantho


শকুনের তরে ভালোবাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল    

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৫৮



শকুনের তরে ভালোবাসা

কিশোরগঞ্জের নিকলীর আঠারবাড়িয়া গ্রামের পাশেই হাওর। গাছে বসা ছিল বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির একটি বুনো শকুন। এলাকার দুরন্ত কিছু ছেলে গত বুধবার বিকেলে ঢিল ছুড়ে, গুলতি মেরে পাখিটিকে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে মেতে ওঠে খেলায়। শকুনটিকে তারা টানাহ্যাঁচড়া করে। ওদিকে পাখিটির প্রাণ যায় যায় অবস্থা। নিস্তেজ হয়ে পড়া শকুনটিকে মৃত ভেবে খালের পারে ফেলে দিয়ে ঘরে ফেরে ছেলেরা। জানতে পেরে গ্রামের পাখিপ্রেমী যুবক জামশেদ আলী খালপারে ছুটে যান; দেখেন, তখনো পাখিটির প্রাণ আছে। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। তিনি পাখিটিকে বাড়ি নিয়ে যান। রাতভর এটা-সেটা খাওয়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পাখিটিকে নিয়ে বাজিতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে যান। শুরু হয় চিকিৎসা।

গতকাল দুপুরে বাজিতপুর প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকরা পাখিটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন। ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। খাওয়ানো হয়েছে স্যালাইন। চিকিৎসকরা জানান, পাখিটির ওজন প্রায় ২০ কেজি। সাত ফিট চওড়া ও প্রায় সাড়ে তিন ফুট লম্বা পাখিটির ডানা, ঊরু ও গলায় আঘাতের চি ডিগ্রি রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে জামশেদ আলী বাজিতপুর বাজার থেকে ছোট মাছ এনে পাখিটিকে খাওয়াচ্ছেন। তিনি বলেন, সুস্থ হলে পাখিটিকে আকাশে উড়িয়ে দেবেন; না হয় চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। পরে গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালে ফের গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে মুমূর্ষু শকুনটি নিথর পড়ে আছে। তবে চোখগুলো চকচক করছিল। 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, এটি একটি দুর্লভ শিকারি শকুন এবং এটি স্থায়ী প্রজাতির। তবে পাখিটির অবস্থা বেশ শোচনীয়। পাখিটিকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেখা যাক, পাখিটির ভাগ্যে কী ঘটে।    



মন্তব্য