kalerkantho


সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ শিশু শিক্ষার্থী নিহত

আজ বেনাপোল ট্র্যাজেডি দিবস

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১০:১৩



আজ বেনাপোল ট্র্যাজেডি দিবস

দিন মাস পার হয়ে ফিরে এসেছে বছরের ঠিক এই দিনটি। কিন্তু ফিরে আসেনি হারিয়ে যাওয়া ৯ শিশু শিক্ষার্থী। আজো কান্না থামেনি হারিয়ে যাওয়া এসব শিশুর পরিবারের। পথ চেয়ে বসে আছে এই বুঝি ফিরে আসছে তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানরা। তারা চলে গেছে না ফেরার দেশে। আর কোনোদিন ফিরবে না। ঝরে যাওয়া ফুল ফিরে পাবে না পরিবারের সদস্যরা। আজ শুক্রবার তাদেরকে অশ্রুতে স্মরণ করবে গোটা বেনাপোলবাসী। গত চার বছর এ অনুষ্ঠান বেনাপোল পৌর মেয়র আয়োজন করলেও এবার সংসদ সদস্যের আয়োজনে করা হচ্ছে।

এই দিনে খালি হয় কিছু দু:খিনি মায়ের কোল। ২০১৪ সালের এই দিনে মুজিবনগর থেকে শিক্ষা সফর শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিশু শিক্ষার্থী। সেই শোকে আজও স্তব্ধ বেনাপোল। কালের পরিক্রমায় বেনাপোল ট্র্যাজেডির পাঁচ বছর পূর্তি আজ। সেই হিসেবে আজ বেনাপোলে শোক দিবস। 

শোক দিবসের পঞ্চম বর্ষকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে এদিন শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সকালে শোক র‌্যালি, ৯ শিশু শিক্ষার্থীর স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিল। এ কর্মসূচিতে বেনাপোলের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, পেশাজীবি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও এদিন সকল সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। এতে উপস্থিত থাকবেন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মুজিব নগরে যান। সেখান থেকে চৌগাছা হয়ে বেনাপোলে ফেরার পথে ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং  ৪৭ জন শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়- বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া (১০) ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেবা আক্তার (৮), ছোটআঁচড়া গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা (১০), রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার মীম (৯), লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত (৯), গাজিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন (১০) ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি (১১)। ঘটনার ১৩ দিন পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আরো এক শিক্ষার্থী। সে ছোটআঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল (১১)। সর্বশেষ দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান (১১)।



মন্তব্য