ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে অন্য এক ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ভাটিসাভার গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে স্কলারশিপ পাওয়ায় বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২২ জুলাই ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত রবিবার (২৬ জুলাই) ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই ও পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য অফিসে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে জানান, একই নাম ও এনআইডি ব্যবহার করে এর আগেই ঢাকা কেন্দ্রীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি আপত্তি জানালে কর্মকর্তারা নথিপত্র পুনরায় যাচাই করেন।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর মোহাম্মদপুরের এক ব্যক্তি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন এবং ৪ নভেম্বর তোফায়েল আহমেদের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে নিজের ছবি দিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন।
এদিকে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম বা অন্য কোথাও বেশি জলঘোলা না করার অনুরোধ জানান।
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ইতিমধ্যে এই জালিয়াতি চক্র ও ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভেতরের বা বাইরের যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ জানান, তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কিভাবে অন্য একজন পাসপোর্ট পেল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় তার বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। সব নথি কেন্দ্রীয় পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে।