kalerkantho


তুমব্রু সীমান্তে বিজিপির শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ : প্রতিবাদ বিজিবি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:৫৭



তুমব্রু সীমান্তে বিজিপির শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ : প্রতিবাদ বিজিবি’র

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) গতকাল মঙ্গলবার ভোরে আকস্মিক ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে। কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের শূন্য রেখায় মিয়ানমার বাহিনীর ফাঁকা গুলিবর্ষণে সীমান্তে ভীতির সঞ্চার হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৪টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২০ মিনিটে কমপক্ষে ২০০/৩০০ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে সীমান্তের লোকজন জানিয়েছেন। তবে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বিজিপি ১২০/১২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে। সীমান্তে আকস্মিক কেন এবং কি উদ্দেশে এরকম গুলিবর্ষণের ঘটনা তা বলা যাচ্ছে না। তবে অনেকেই মনে করছেন, মিয়ানমার বাহিনী যেকোনো প্রকারেই একটি ইস্যু খুঁজছে। এ কারণেই উস্কানিমূলক আচরণ করছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র উপ অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান-‘ তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মঙ্গলবার ভোর বেলায় ১২০১২৫ রাউন্ড রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয়েছে। কী কারণে এ গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।’ তিনি বলেন, এ ঘটনার পর পরই তাৎক্ষণিক বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।  

তুমব্রু শূন্য রেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে জানান- ‘আমরা যখন ঘুমে ছিলাম সেই ভোর সাড়ে ৪টায় আকস্মিক তুমব্রু মাইক পাহাড়ের বিজিপি ক্যাম্প থেকেই প্রথম গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পাই। এরপর দেখি সীমান্তের সবগুলো বিজিপি ক্যাম্প থেকে শুধু গুলি আর গুলির শব্দ।’

রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ জানান, বিশ মিনিটে কমপক্ষে ২/৩ শ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ৪টি স্থায়ীসহ ১৫টি বিজিপি ক্যাম্প রয়েছে। সীমান্তের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাত্র ৪/৫ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে এসব বিজিপি সীমান্ত ক্যাম্প। ঠিক একই সময়েই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন, বিজিপি’র স্থায়ী ক্যাম্প গুলো থেকে ভারী অস্ত্রের গোলাও বর্ষণ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্তের বিজিপি ক্যাম্প থেকে গুলি বর্ষণের সময় তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় রোহিঙ্গা শিবিরসহ বাংলাদেশ সীমান্তের ঘরে ঘরেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন চালায়। সে সময়ে প্রাণ বাঁচাতে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেন। 



মন্তব্য