চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকরা শিশু আবিদা সুলতানা আয়নী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে একমাত্র আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ বিচারক সাইফুর রহমানের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, ‘রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯(৪)(খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, ২১ মার্চ ২০২৩ সন্ধ্যায় আরবি পড়তে বের হয়ে ঘরে ফেরেনি আয়নী। বিড়াল ছানার লোভ দেখিয়ে আয়নীকে পাশবিক নির্যাতন ও বালিশ চাপা দিয়ে মেরে বস্তাবন্দী করে ময়লার স্তুপে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। শিশু আয়নী হত্যার ঘটনায় পাহাড়তলী থানার তৎকালীন পুলিশ ভুক্তভোগীড় পরিবারকে যথাযথ সহায়তা করেনি। শিশুটির মা অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদের মাধ্যমে আদালতের দ্বারস্থ হলে হত্যার আট দিন পর পচে গলে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে পিবিআই।
অ্যাডভোকেট মুরাদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএ রিপোর্ট ও ২৪ জন সাক্ষীর অকাট্য প্রমাণে আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মামলার রায়ে পরিবার এবং আমরা সন্তুষ্ট।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোর রাতে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার আব্দুর কাজীর দিঘীরপাড়া এলাকার ডোবা থেকে শিশু আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২১ মার্চ থেকে আয়নী নিখোঁজ ছিল। বিড়াল ছানার প্রতি ছিল শিশু আয়নীর প্রচণ্ড লোভ। কেউ বিড়াল ছানা দেবে বলে ডাকলেই ছুটে যেত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটি। এ সুযোগই কাজে লাগান ওই এলাকার সবজি বিক্রেতা মো. রুবেল (৩৫)।
গত ২১ মার্চ বিড়াল ছানা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে আয়নীকে ডেকে এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন রুবেল। তারপর ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গলা টিপে আয়নীকে হত্যা করে তার মরদেহ একটি ডোবায় ফেলে দেন।





