• ই-পেপার

কেন্দুয়ায় ক্যান্সার সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ

নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পর্শে ২ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পর্শে ২ জনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পর্শে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলায় সদর ইউনিয়নের পাড়ের হাট পাকারমাথা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার দারিকা চন্দ্র রায়ের ছেলে জয়ন্ত রায় (২৬) ও একই উপজেলার সুঠিপাড়া গ্রামের মৃত মেহের উদ্দিনের ছেলে মো. মোমিনুল ইসলাম বাচ্চু (৫০)। তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, সকালের দিকে পাকারমাথা সড়ক এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের মেরামতের কাজ চলছিল। বেলা ১১টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিশোরগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুজ্জামান বলেন, ওই এলাকায় নতুন ৩৩ কেভি লাইনের পোল স্থাপনের কাজ করছিল সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। 

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।

হাটহাজারীতে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হাটহাজারীতে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার চিকনদন্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকিয়া হাজি জয়নাল কোম্পানির বাড়িতে রবিবার সকালে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আফরোজা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছিল।

এদিকে খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ থানায় নিয়ে আসেন। তিনি জানান, নিহতের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে সিআইডিকে খবর দেওয়া হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পাথরঘাটা

সাগর উত্তাল, মাছ শিকার বন্ধে দুর্দশায় জেলেরা

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
সাগর উত্তাল, মাছ শিকার বন্ধে দুর্দশায় জেলেরা
বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়ায় মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানি খালে আশ্রয় নিয়েছেন জেলেরা। শনিবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হওয়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ফলে বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার শত শত মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। 

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় গভীর সাগরে জেলেদের মাছ শিকার একপ্রকার বন্ধ রয়েছে। এতে আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে জেলে ও ট্রলার মালিকরা। 

শনিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাথরঘাটার বিএফডিসি (নতুন বাজার) খাল, পদ্মার খাল, বাদুরতলা, জিনতলা, কাকচিড়া খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নোঙর করে রাখা হয়েছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। শুধু পাথরঘাটা নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকার ট্রলারও এসব জলাশয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

জেলেরা জানান, গত ১১ জুন সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা হয়। তবে এর পর থেকে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ ট্রলার লোকসানের মুখে পড়ে। পরে ধারদেনা করে আবারও সাগরে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই-তিন দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য হন জেলেরা। তারা জানান, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে এক থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও সেই অর্থের সিংহভাগই এবার ওঠেনি।

পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রলার এফবি মাহাদীর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সাগরে মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর দুই দফায় ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি। তবে দুইবারই লোকসান হয়েছে। পরে ঋণ করে আবারও  ট্রলার সাগরে পাঠালেও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় ফিরে আসতে হয়েছে। এখন আবার ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’

চট্টগ্রামের ট্রলার এফবি মাসুম ৩- এর মাঝি সোনা মিয়া বলেন, ‘সাগর এতটাই উত্তাল যে, সেখানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাথরঘাটায় এসে ট্রলার নোঙর করেছি।’

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা এমনিতেই লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে জেলেরা আবার সাগরে যেতে পারবেন আশা করি।’

পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে শত শত ট্রলার ও হাজারো জেলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদেরকে উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে তারা আবার সাগরে যেতে পারবেন।’

বেরোবিতে ‘শহীদ আবু সাঈদ হল’ নির্মাণের ঘোষণা উপাচার্যের

বেরোবি প্রতিনিধি
বেরোবিতে ‘শহীদ আবু সাঈদ হল’ নির্মাণের ঘোষণা উপাচার্যের
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নির্মাণাধীন চারটি নতুন আবাসিক হলের একটির নাম ‘শহীদ আবু সাঈদ হল’ রাখা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

রবিবার (৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে ‘শহীদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ও টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী ও বকুল মিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘২৪-এর জুলাই আন্দোলনের বীরদের স্মৃতি ও জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় করে রাখতে হবে।’ তিনি শহীদ আবু সাঈদকে ‘জাতীয় বীর’ আখ্যায়িত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন চারটি নতুন আবাসিক হলের একটির নাম ‘শহীদ আবু সাঈদ হল’ রাখা হবে।

উপাচার্য আরো বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।

উদ্বোধনী ম্যাচে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ মুখোমুখি হয় মার্কেটিং বিভাগের। এবারের টুর্নামেন্টে ছেলেদের ২২টি এবং মেয়েদের ৪টি বিভাগ অংশ নিচ্ছে।

কেন্দুয়ায় ক্যান্সার সচেতনতায় শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ | কালের কণ্ঠ