• ই-পেপার

অজানা রোগ, তানোরে দুই দিনে ৪ জনের মৃত্যু

মৌলভীবাজারে বন্যায় কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি, মাঠপর্যায়ে চলছে জরিপ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে বন্যায় কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি, মাঠপর্যায়ে চলছে জরিপ
সংগৃহীত ছবি

গত কয়েকদিনের টানা বন্যায় মৌলভীবাজার জেলায় কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তা-ঘাট বসত বাড়ি থেকে পানি নামায় ক্ষত চিহৃ ভেসে উঠছে। এছাড়াও বন্যার তোড়ে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে পূণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপন করতে সময় লাগবে। এখনো অনেক নিচু এলাকায় রাস্তাঘাট থেকে পানি নামেনি। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা আংশিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানিয়েছেন।

কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় কৃষিখাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, জেলায় ৩৮,৫৩০ হেক্টর জমিতে আউস আবাদ হলেও ২৪৮ হেক্টর আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ৩,০৭৯ হেক্টর আমন বীজতলার মধ্যে ৮৬.৫০ হেক্টর এবং ২৩৬ হেক্টর খরিফ-২ সবজি আবাদের মধ্যে ৬৪.৫০ হেক্টর এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন বলে আশা করছি।’

মৎস্য খাতে কোটি টাকার ক্ষতি

বন্যায় জেলার মৎস্য চাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আরিফ হোসেন জানান, বন্যায় জেলার প্রায় ৪০৫টি পুকুর ও জলাশয় প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে বিপুল পরিমাণ মাছ। প্রাথমিক হিসাবে এই খাতে প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

কৃষিখাতের পাশাপাশি জেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। বন্যার তোড়ে অনেক স্থানে রাস্তাঘাট ভেঙে বা তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পুরো পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট হতে আরও ৩-৪ দিন সময় লাগবে। জরিপ শেষেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

গবাদিপশুর খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ

বন্যায় চারণভূমি ও খামারের গোখাদ্য তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর মালিকরা পড়েছেন চরম সংকটে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান জানিয়েছেন, প্রতিটি উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। তিনি বলেন, “খামারিরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া মাত্রই সরকারি সহায়তা এবং জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।’

উল্লেখ্য যে,  উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায়  মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হচ্ছে।  মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্র বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা বাড়ি ফিরেছেন। বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার।

রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের বন্যায় আক্রন্ত রফিক মিয়া ও জসিম মিয়া , আছিয়া বেগম বলেন, গত ৩ দিন পানির নিচে থাকার পর গতকাল শনিবার রাত থেকে ঘর বাড়ি থেকে পানি নামা শুরু করেছে। ঘরে খাবার নেই , অনেকে সরকারী সাহায্য পাচ্ছে আমরা এখনো পাইনি। এছাড়াও  আমাদের পরিবারের বাচ্চাকাচ্চার জ্বর উঠেছে আবার কারো ডায়রিয়া আক্রান্ত।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘বন্যা কবলিত এলাকায় পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সেবায়  মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। একই সাথে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত করা আছে। নিচু এলাকায় অনেক স্থানে পানি রয়েছে।’

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য ইতোমধ্যে খাবার, চাল ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত প্রতিটি এলাকায় মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা মনিটারিং করছি। তবে বাড়ি ঘর থেকে পানি নেমে গেছে।’

নালিতাবাড়ীতে নৈতিক শিক্ষা চর্চায় সততা স্টোর

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
নালিতাবাড়ীতে নৈতিক শিক্ষা চর্চায় সততা স্টোর
নালিতাবাড়ীর তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সততার চর্চা গড়ে তুলতে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও সততার চর্চা গড়ে তুলতে ‘সততা স্টোর’ নামে একটি বিক্রেতাবিহীন দোকানের উদ্বোধন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অর্থায়নে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে দোকানটির উদ্বোধন করা হয়। ফিতা কেটে ‘সততা স্টোর’-এর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক।

পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও মো. আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) নালিতাবাড়ীর সাধারণ সম্পাদক মান্নান সোহেলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দুপ্রকের সভাপতি হাকাম হীরা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন, বিআরডিবির চেয়ারম্যান এম এ রায়হান, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন, কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন তুলিপ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘সততা স্টোর’ একটি বিক্রেতাবিহীন দোকান। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা মূল্যতালিকা দেখে প্রয়োজনীয় পণ্য নিজেরাই সংগ্রহ করবে এবং নির্ধারিত মূল্য ক্যাশ বাক্সে জমা দেবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা গড়ে উঠবে। ভবিষ্যতে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন তারা।

পাকাকরণের নামে ২ কিমি সড়কের ইট তুলে বিক্রি করে দিল প্রতারকচক্র

স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে করা হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

জামালপুর প্রতিনিধি
পাকাকরণের নামে ২ কিমি সড়কের ইট তুলে বিক্রি করে দিল প্রতারকচক্র
ছবি : কালের কণ্ঠ

জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের গজারিআটা থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কথা বলে পুরোনো ইট খুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এতে গত দুই মাস ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মে সড়ক পাকাকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আবদুল মান্নান দাবি করেন, ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে এবং তিনি সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবেন। পরদিন থেকেই তার লোকজন সড়কের পুরোনো ইট খুলে বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি শুরু করে। তবে পরে দীর্ঘ সময়েও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

খোঁজ নিয়ে এলাকাবাসী জানতে পারেন, ওই সড়কের কোনো সরকারি প্রকল্প বা দরপত্রই হয়নি। প্রতারণার মাধ্যমে সড়কের ইট তুলে বিক্রি করা হয়েছে।

এরপর গত ১৬ জুন দিগপাইত ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকার আরেকটি সড়ক থেকেও একই কৌশলে ইট তুলতে গেলে স্থানীয়রা আবদুল মান্নানসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

শনিবার (১২ জুলাই) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী জুতা হাতে নিয়ে খালি পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আছমত আলী বলেন, ‘সড়ক পাকাকরণের কথা বলে পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল নতুন ইট বসানো হবে। কিন্তু পরে সব ইট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এখন কাদা আর গর্তের কারণে চলাচলই দায়।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এভাবে প্রতারণা করবে, কেউ ভাবেনি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাই।’

সড়কের ইটের এক ক্রেতা আফসার আলী বলেন, ‘আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্রতি হাজার ৭ হাজার টাকা দরে ৮ হাজার ইট কিনেছিলাম। পরে জানতে পারি, তিনি প্রতারণা করে সড়কের ইট বিক্রি করেছেন।’

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘ওই সড়ক পাকাকরণের কোনো সরকারি প্রকল্প ছিল না। একটি প্রতারক চক্র প্রতারণার মাধ্যমে সড়কের ইট তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ইউপি সচিব বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে কিছু ইট উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ইট শনাক্ত ও উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘প্রতারক চক্রটি সড়ক পাকাকরণের টেন্ডার হয়েছে বলে প্রচার করে ইট তুলে বিক্রি করে দেয়। প্রথমে আমরাও বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে তদন্ত করে জানা যায়, ওই সড়কের কোনো টেন্ডারই হয়নি। এরপর ১১ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

নিষিদ্ধ করতে চাওয়া জাপা নেতার বাড়িতে খাওয়া শেষে রাত্রিযাপন নাহিদ-হাসনাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিষিদ্ধ করতে চাওয়া জাপা নেতার বাড়িতে খাওয়া শেষে রাত্রিযাপন নাহিদ-হাসনাতের
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় পার্টির (জাপা) এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহর অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘খান বাহাদুর বদি আহমদ বাড়ি’তে অবস্থান করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনে সহযোগিতার অভিযোগে একসময় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিল এনসিপি। সেই দলেরই এক শীর্ষ নেতার বাড়িতে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ দিতে এসে দলটির শীর্ষ দুই নেতার রাতযাপন ও নৈশভোজের বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈলছড়ি গ্রামের ওই বাড়িটি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র এবং জাতীয় পার্টির আমলে দুই দফায় বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। বাড়িটি আমাদের ছয় ভাইয়ের নামে। এনসিপি নেতাদের আমাদের বাড়িতে অবস্থানের বিষয়ে প্রথমে আমি কিছু জানতাম না, পরে শুনেছি তারা সেখানে ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার এক ছোট ভাই আমেরিকায় থাকেন। তার সঙ্গে হয়তো তাদের কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে আমাদের পরিবারের কেউ এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, রবিবার রাতে এনসিপি নেতাদের থাকা-খাওয়ার সার্বিক বিষয়টি দেখভাল করেছেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ভাই অলিউল ইসলাম চৌধুরী শুক্কু মিয়ার ছেলে রহিমুল এহসান চৌধুরী মিঠু।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় রবিবার সকালে চট্টগ্রামে আসেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। দিনভর আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পর সন্ধ্যায় তারা ‘খান বাহাদুর বদি আহমদ বাড়ি’তে যান এবং সেখানে রাতযাপন করেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা বাঁশখালীতে রাতে অবস্থান করেছিলেন এটি সত্য। তবে বাড়িটি সুনির্দিষ্টভাবে কার, তা আমার জানা নেই।’

অজানা রোগ, তানোরে দুই দিনে ৪ জনের মৃত্যু | কালের কণ্ঠ