kalerkantho


ফুলবাড়িয়ায় সাবেক মেম্বারের বিরুদ্ধে সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০১:৪৮



ফুলবাড়িয়ায় সাবেক মেম্বারের বিরুদ্ধে সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ ভায়া বাবুগঞ্জ সড়কের ৫৪ টি আকাশমণি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাওগাঁও ইউনিয়নের দুই নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার স্থানীয় প্রভাবশালী শামছুল হকের বিরুদ্ধে। গাছগুলোর মূল্য হবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক দিয়ে সড়কের গাছ কাটলেও দেখার কেউ ছিল না। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যান গাড়িতে করে সড়কের গাছগুলো বিভিন্ন স মিলে নিয়ে রাখা হয়। বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় ছোট গাছের কয়েকটি কাণ্ড ও ডাল পালা সড়কে পাশেই পরে থাকতে দেখা যায়।

পরে শুক্রবার দুপুরে নাওগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আ. রাজ্জাক চেয়ারম্যানের নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে আকাশি গাছের ছোট ২৫ টি কাণ্ডসহ ৪৬ পিস ডাল জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফুলবাড়িয়ার নাওগাঁও ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ সড়কের ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন পাকা সড়কের আকাশমণি গাছগুলো ছিল। গাছগুলো দ্রুত বেশ বড় হয়ে ওঠে। প্রতিটি আকাশমণি গাছের মূল্য হবে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। দিনদুপুরে সরকারি সড়কে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

নাম না বলা শর্তে স্থানীয় একজন বলেন, অনেক দিন যাবৎ সড়কের গাছগুলো কেটে নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করছিল শামছু মেম্বার। দুইদিন সরকারি বন্ধ থাকায় সুযোগটা কাজে লাগিয়ে গাছগুলো কেটে নিয়েছেন। তার ছেলে ও মেয়ে পুলিশে চাকুরি করায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে শামছুল হক বলেন, সড়কের পাশে যাদের জমি আকাশি গাছগুলো তাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছি। সড়কের গাছ কিভাবে ক্রয় করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে। কাটা গাছগুলো মেম্বার জব্দ করে পরিষদে নিয়ে গেছে। 

এদিকে ইউপি সদস্য আ. রাজ্জাক বলেন, সড়কে পাশে ৫৪ টি আকাশি গাছের গুঁড়ি কাটা রয়েছে। বড় বড় আকাশি গাছগুলো আগেই সরিয়ে ফেলেছে। ছোট ছোট ৪৬ পিস ডালপালা ঘটনাস্থলে ছিল সেগুলো নিয়ে এসে পরিষদে রেখেছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার শেফা বলেন, সড়কের গাছ কাটার বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি এবং সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করতে বলেছি।

সড়কের গাছ কাটার ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন ইউএনও স্যার ঢাকায় প্রশিক্ষণে রয়েছে তিনি আসলেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য