kalerkantho


বাঘ লোকালয়ে, আতঙ্ক

১১ বছরে বাঘ বন ছেড়েছে ১৩৩ বার

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী ও মহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট    

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৪:৫৮



বাঘ লোকালয়ে, আতঙ্ক

প্রতীকী ছবি

সুন্দরবন ছেড়ে আবারও একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। বাঘের গর্জন আর পায়ের ছাপ দেখে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে বাঘ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বন বিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, টাইগার টিম (ভিটিআরটি), কমিউনিটি প্যাট্রলিং (সিপিজি) গ্রুপের সদস্য এবং গ্রামবাসী রীতিমতো বাঘ তল্লাশিতে নেমে পড়েছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাঘ খুঁজে পায়নি তারা।

গত ১১ বছরে সুন্দরবন ছেড়ে ১৩৩ বার বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। আর গত বছর জানুয়ারি মাসে একটি বাঘ সুন্দরবন ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়লে গ্রামবাসী ওই বাঘটিকে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। ভোলা নদী ভরাট হয়ে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় প্রায়ই সুন্দরবন ছেড়ে বাঘ লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বলে বন বিভাগ ও গ্রামবাসী জানিয়েছে।

সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামবাসী কালের কণ্ঠকে জানায়, বুধবার গভীর রাতে তারা বাঘের গর্জন শুনতে পায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায় শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা এবং দক্ষিণ সোনাতলা গ্রামের মাঠে, রাস্তায় এবং খালের চরসহ বিভিন্ন স্থানে বাঘের অসংখ্য পায়ের ছাপ পড়ে আছে।

তারা জানায়, বুধবার রাতে পানিশূন্য ভোলা নদী পার হয়ে বগী-শরণখোলা ভারানী এলাকার পানির ঘাট দিয়ে বাঘটি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। গতকাল সকালে গ্রামবাসীর মধ্যে বাঘ হটানোর তোড়জোড় শুরু হয়। খবর পেয়ে সুন্দরবন বিভাগ, ওয়াইল্ড টিম, টাইগার টিম, কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের সদস্যরা দ্রুত সেখানে আসেন। শত শত গ্রামবাসী যুক্ত হয় তাঁদের সঙ্গে। চলতে থাকে বাঘের সন্ধান। হ্যান্ডমাইক ও মসজিদের মাইক থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা এবং সাবধানে চলাফেরা করার জন্য বলা হয়।

ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলার মাঠ কর্মকর্তা মো. আলম হাওলাদার বলেন, ‘আমি নিজে দক্ষিণ সোনাতলা ও সোনাতলা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের পায়ের শতাধিক ছাপ দেখতে পেয়েছি। বাঘ রাতভর ওই দুটি গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছে। বাঘের গর্জন শুনতে পেয়েছে গ্রামবাসী। সকালে অনেকের বাড়ির সামনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে।’

আলম হাওলাদার আরো বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বাঘ খুঁজে পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘ পুনরায় ভোলা নদী পার হয়ে সুন্দরবনে ফিরে গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. শামসুল হক বলেন, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নিয়ে বাঘ বিচরণ করেছে। বাঘের সন্ধানে গ্রামের বনজঙ্গল তল্লাশি করা হয়েছে। কোথাও বাঘ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘ পুনরায় সুন্দরবনে ফিরে গেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বন বিভাগের সদস্যরা ওই গ্রামে টহলে রয়েছেন। ওয়াইল্ড টিম, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যরাও সেখানে কাজ করছেন।

ডিএফও জানান, সুন্দরবন ছেড়ে বাঘ যাতে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে এ জন্য তাঁরা ‘বাউন্ডারি ফেন্সিং ওয়াল’ প্রকল্প প্রস্তুত করেছেন। প্লাস্টিকের আবারণ দেওয়া তার দিয়ে ওই বেড়া দেওয়া হবে। ওই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বেড়া দেওয়া হলে বাঘ আর লোকালয়ে ঢুকতে পারবে না বলে ডিএফও মনে করেন।



মন্তব্য