kalerkantho


শতবর্ষী গাছ কাটা বন্ধ করল বিক্ষুব্ধ জনতা

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৪:৫৪



শতবর্ষী গাছ কাটা বন্ধ করল বিক্ষুব্ধ জনতা

নীলফামারী জেলা শহরের আদালত সড়কে শতবর্ষী গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি গাছগুলো রক্ষা করার দাবিতে সেখানে মানববন্ধনও করে তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নীলফামারী শহরের আদালত এলাকার প্রধান সড়কে শতবর্ষী পরিবেশবান্ধব দুটি কাঠবাদাম ও দুটি কড়ই গাছ বিক্রি করেছে জেলা পরিষদ। বিষয়টি ‘অনৈতিক’ হওয়ায় মানববন্ধন করে গাছকাটা বন্ধের দাবি জানায় তারা।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা মানববন্ধনে অংশ নেন পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, জেলা কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি মফিজার রহমান দুলাল প্রমুখ।

জানা গেছে, শহরের শহিদুল ইসলাম নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী কিনেছেন ওই গাছগুলো। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে চারটি গাছ আমি এক লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছি। ওই চারটি গাছের মধ্যে হেনচাই কড়ই গাছ কাটা শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এ কারণে এখন গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।’

নীলফামারী সদর থানার ওসি মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন বলেন, ‘শতবর্ষী এসব গাছ আমাদের ঐতিহ্য। আদালত এলাকার এসব গাছের তলায় প্রখর রোদে শত শত মানুষ আশ্রয় নেয়। সুস্থ এসব গাছ জেলা পরিষদ কেন, কার স্বার্থে কাটছে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। তাই আমরা দল-মত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘গাছগুলো অকারণে কেটে পৌরসভার সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে, নীলফামারীর ঐতিহ্য নষ্ট করা হচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে ওই গাছ কাটা বন্ধ করব।’

জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া ওই গাছগুলো কাটার ব্যাপারে পুলিশ সুপার আমাদের চিঠি দেন। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞাপন দেই। সে অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়।’



মন্তব্য