kalerkantho


বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

মারা গেল একমাত্র পুরুষ জিরাফটিও

শাহীন আকন্দ, গাজীপুর    

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৯:৪২



মারা গেল একমাত্র পুরুষ জিরাফটিও

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জিরাফ পরিবারের শেষ পুরুষ সদস্যটিও মারা গেল। গত মঙ্গলবার রাতে মারা যাওয়ার পর সেটিকে পার্কেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। পার্কের খোদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় একমাত্র পুরুষ জিরাফটি মারা গেছে।

পার্কের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরো আটটি জিরাফ মারা গেছে। সেগুলোর মধ্যে চারটিই ছিল ছেলে জিরাফ। এরপর জিরাফ পরিবারে গত প্রায় সাত মাস ধরে একটিমাত্র ছেলে সদস্য ছিল। সেটিও মারা যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেল পার্কে জিরাফের প্রজনন কার্যক্রম।

কর্মকর্তারা জানান, এই পার্কে জিরাফ পরিবারে গত বছর প্রজনন শুরু হয়েছিল। এখানে জিরাফের প্রথম শাবকের জন্ম হয়েছিল গত বছরের ১৩ জুন। এরপর আরো তিনটি শাবকের জন্ম হয়। জন্ম নেওয়া চারটি শাবকের মধ্যে তিনটিই ছিল মাদি। গত বছরের শেষের দিকে জন্ম নেওয়া ছেলে শাবকটির মৃত্যু হয়। বর্তমানে পার্কে জন্ম নেওয়া অপ্রাপ্ত বয়সের তিনটিসহ সাতটি মাদি জিরাফ রয়েছে।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চার দফায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১২টি জিরাফ আনা হয়েছিল। ওদের মধ্যে চারটি মাদা আর আটটি মাদি জিরাফ ছিল। সাফারি পার্কের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েক দিন ধরেই একমাত্র মাদা জিরাফটি খাওয়া কমিয়ে দেয় এবং ঝিমুতে থাকে। এই লক্ষণ দেখেও গা-করেননি কর্তব্যরত চিকিৎসক। অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে জিরাফটি। মঙ্গলবার রাতের কোন সময়ে এটি মারা যায় তা-ও কেউ জানে না। পরদিন বুধবার সকালে কর্মচারীরা জিরাফটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘ডা. নিজাম উদ্দীন চৌধুরী কাজে মনোযোগী নন। তাঁর অবহেলায় জিরাফটি মারা গেছে।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন ডা. নিজাম উদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পার্কে প্রাণী মারা যায় অব্যবস্থাপনায়।’ জিরাফটির মৃত্যু নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।



মন্তব্য