kalerkantho


সীতাকুণ্ডে শিক্ষক খুনে জড়িত রিফাতের স্বীকারোক্তি

ভাই ফরহাদকে না পেয়ে শিক্ষক রিয়াদকে খুন করে দুষ্কৃতীরা!

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০১:০৭



ভাই ফরহাদকে না পেয়ে শিক্ষক রিয়াদকে খুন করে দুষ্কৃতীরা!

শিক্ষক ইমরান হোসেন রিয়াদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে শিক্ষক ইমরান হোসেন রিয়াদ (২৮) হত্যায় জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ওই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হত্যার বর্ণনা দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর ফলে এ খুনের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের নামও জানা গেছে। আসামির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে পূর্ব শত্রুতার জেরে বড় ভাই মো. ফরহাদ হোসেনকে হত্যা করতে এসেই রিয়াদকে খুন করেছে তারা। অন্যদিকে ফরহাদের দাবি তার সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি এই স্বীকারোক্তিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি সোমবার রাতে উপজেলার বাড়বকুণ্ড রেলওয়ে কলোনির অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী মো. সরোয়ার হোসেনের ঘরে এসে অস্ত্রধারীরা তার গলায় ধারালো ছুরি ধরে। এ সময় তার স্ত্রীর চিৎকারে ছেলে ইমরান হোসেন রিয়াদ (২৮) সেখানে ছুটে এলে ডাকাতরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। রিয়াদ সীতাকুণ্ড আলীয়া কামিল মাদরাসার ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ও এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম আছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করে নিহতের বাবা। 

ঘটনার তদন্তে নেমে শুক্রবার রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (ইনটেলিজেন্স) স্বপন বনিক, উপ-পরিদর্শক টিবলু কুমার মজুমদার ও আবদুল আলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ‌ওই এলাকার বাসিন্দা চিহ্নিত অপরাধী রিফাত ইসলামকে (২০) কে গ্রেপ্তার করে। রিফাত রিয়াদের প্রতিবেশি। সে মধ্যম মহামুদাবাদ বাজারতলী এলাকার আলী হায়দারের ছেলে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) জিহান সানজিদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে রিফাত।

সীতাকুণ্ড সার্কেলের এডিশনাল এসপি শম্পা রানী সাহা জানান, আদালতে প্রদানকৃত স্বীকারোক্তিতে রিফাত জানিয়েছে যে সে রিয়াদ হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী। অন্য খুনিদের সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিল। রিফাতের দাবি তারা রিয়াদকে হত্যা করতে সেখানে যায়নি। তাদের লক্ষ ছিল তার বড় ভাই ফরহাদ। ফরহাদের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ও কথা কাটাকাটির জেরে তাকে খুন করতে গিয়ে বাবা সরোয়ার হোসেনের গলায় ছুরি ধরলে ঘরে থাকা শিক্ষক রিয়াদ এসে তাদেরকে রড দিয়ে আঘাত করে। এ কারণে তাকে ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি মারা যান।

রিফাত আরো জানায়, ঘটনার সময় তারা ৫ জন সেখানে উপস্থিত ছিল। সে সবার নামও প্রকাশ করেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম জানাতে রাজি হয়নি। এদিকে রিফাতের জবানবন্দিতে ফরহাদের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার কথা বলা হলেও কারো সঙ্গে তার শত্রুতার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন ফরহাদ। 

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত রিফাত ইসলামকে আমি চিনি। আমার বাড়ি থেকে তার বাড়ি বেশি দূরে নয়। সে মহাসড়কে এবং গ্রামে নিয়মিত ডাকাতিসহ নানান অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তার সঙ্গে কিংবা এলাকার কারো সঙ্গেই আমার কোনো শত্রুতা নেই। আর আমি দীর্ঘ ৭ মাস বাড়িতে থাকি না। যেহেতু রিফাত আমার প্রতিবেশি সেহেতু সে ভালোভাবেই জানে যে আমি দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকি না। তাই আমি না থাকা অবস্থায় আমাকে খুন করতে আসার কথা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।

তিনি বলেন, ডাকাতি করতে এসেই তারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আর কিছু ঘটেনি। কিন্তু এখন পুলিশকে কেন এসব কথা বলেছে তা বোধগম্য নয়। 



মন্তব্য