kalerkantho


নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

বিজয় দিবসে 'কোর্ট মার্শাল'

সজীব আহমেদ, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:২৩



বিজয় দিবসে 'কোর্ট মার্শাল'

বিজয় দিবসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রযোজনায় প্রায় দুই শতাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সমন্বয়ে উন্মুক্ত পরিবেশে মঞ্চায়ন হলো ব্যতিক্রমী গল্পের নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল 'কালের কণ্ঠ'।

আজ রবিবার রাত ৭ টায় বিশ্ববিদ্যালয় অগ্নিবীণা হল সংলগ্ন এবং কেন্দ্রেীয় খেলার মাঠ এলাকার প্রায় ৪০ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গাজুড়ে থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদারের নব্যরূপায়ন স্ক্রিপ্ট ও নির্দেশনায় ক্যান্টনমেন্টের একটি পরিবেশ তৈরি করে বৃহৎ পরিসরে ‘কোর্ট মার্শাল’ নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। বিজয়ের ৪৭ বছর উপলক্ষে ৪৭ ফিটের একটি পতাকা প্রদর্শিত হয় এ নাটকের দৃশ্যে।

নাটকটিতে ব্যবহৃত হয়েছে মাইক্রোবাস, জিপ, অ্যাম্বুলেন্স, আর্মি ভ্যান, মোটরবাইক, সাইকেল ও  রিকশা। এ ছাড়াও প্রশিক্ষিত মোটরবাইক স্ট্যানিং গ্রুপ, সাইকেল স্ট্যানিং গ্রুপ এবং নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ২০ জন শ্রমিক নাটকটিতে অভিনয় করেন।

প্রায় সাত লক্ষ টাকা ব্যায়ে নাটকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নাটকে ব্যবহৃত কস্টিউম তৈরি করেছেন এবং ব্যবহৃত দ্রব্যসামগ্রী (প্রপস্) কিনেছেন। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান আরএফএল প্লাস্টিক সকল কমিউনিকেশন ও সাউন্ড দিয়ে প্রযোজনাটি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন।

নাটকের নির্দেশক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার কালের কণ্ঠকে জানান, ‘কোর্ট মার্শাল’ তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ ভাবনায় ইতিবাচক পদক্ষেপ রাখবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত একটি সুসজ্জিত ও সুগঠিত বাহিনীর মতো ৬০ জন সেনা সদস্য দৃপ্ত শপথকে বুকে ধারণ করে নিজেদের প্রস্তুত করেছিলেন এ নাটকের জন্য। ‘কোর্ট মার্শাল’ এর সেট, লাইট, কস্টিউম, প্রপস্, মিউজিক ও মেকআপ এর মাধ্যমে পুরো মঞ্চটিকে মনে হয়েছিল মিনি ক্যান্টনমেন্ট। দর্শকরা হয়ে উঠেছিল এই নাটকের অংশ।

এ নাটকের জন্য দীর্ঘ দুই মাস ধরে দুই ধাপে সকাল থেকে রাত অবধি মহড়া কার্যক্রম করেন। নাটকটি নির্মাণে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাহাবউদ্দীন বাদল। এ ছাড়াও সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি তপন কুমার সরকার, বর্তমান সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ও সহসভাপতি ড. এমদাদুর রাশেদ সুখন।

নাটকটিতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইসমতআরা ভূঁইয়া ইলা। এ বিভাগের সকল শিক্ষকগণ এবং প্রায় সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সেট, লাইট, কস্টিউম, মিউজিক, মেকআপসহ সকল কাজের সমন্বয় করেছেন।

প্রায় দেড় ঘণ্টার এ নাটকটির মূল প্রতিপাদ্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উঠে এসেছে অত্যন্ত জোরালোভাবে। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে সেই আলোকেই ‘কোর্ট মার্শাল’। বীরাঙ্গনা প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে স্পর্শকাতরভাবে। শ্রেণিসংঘাতের ভিত্তিতে আমাদের সমাজের প্রকৃত চেহারাটি নাটকটিতে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের নিধন এবং মূল্যবোধের সব অর্জনকে ধ্বংস করার পরিকল্পিত চক্রান্ত নাটকে উপস্থাপিত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিষ্পেষণে একসময় অধীন ব্যক্তিরা হয়ে উঠে প্রতিবাদী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাজে তাদের জায়গা হয় না।

উন্মুক্ত এ ‘কোর্ট মার্শাল’ নাটকটি দেখতে এসেছিলেন হাজার হাজার দর্শক। নাটক শেষে অনেকের কাছে এ নাটকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, ‘কোর্ট মার্শাল’ নাটকটি আমাদের চেতনাকে শাণিত করবে। একাত্তরের ইতিহাস বিকৃতির দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে এ নাটকের মাধ্যমে। তরুণ প্রজন্মকে একাত্তরের সঠিক ইতিহাস জানানো খুবই জরুরি, এ জরুরি কাজটাই সম্পন্ন করল বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এ নাটকের মাধ্যমে।

তারা আরো বলেন, এ নাটকটি বেশি বেশি মঞ্চায়ন হওয়ার দরকার দেশের বিভিন্ন জায়গায়।



মন্তব্য