kalerkantho


নোয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর, আহত ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৯



নোয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর, আহত ৬

নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজারে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল দূবৃর্ত্ত। হামলায় সেনবাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিসিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।

আজ রবিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত বাকি পাঁচজনের অন্যরা হলেন- উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শিহাব উদ্দিন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ। গুরুতর আহত আবুল কালাম আজাদ ও শিহাব উদ্দিনকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হযেছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে স্থানীয় বিএনপি।

সেনবাগ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন পাটেয়ারীর জানান, সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন থেকে সকাল সাড়ে নয়টায় বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়ার সময়সূচি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে আটটার পর দলীয় কার্যালয়ে যান। সকাল পৌনে নয়টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতে তাদের কার্যালয়ে হামলা করে। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। হামলাকারীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বিএনপির নেতাদের পিটিয়ে আহত করে। তারা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তারা কার্যালয়ের ভেতর থেকে আসবাবপত্র ও নির্বাচনী পোস্টার রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

নোয়াখালী ২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, তিনি অল্পের জন্য হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি কয়েক শ গজ দূরে ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাকে নিষেধ করায় তিনি ঘটনাস্থলে যাননি। গেলে তিনিও হামলার শিকার হতেন। এ সময়ে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শওকত হোসেন বলেন, তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না। মনোনয়ন নিয়ে তাদের দলীয় কোন্দল রয়েছে সে কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

নোয়াখালী ২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোরশেদ আলম বলেন, হামলার বিষয়ে তিনি পরস্পরবিরোধী কথা শুনেছেন। আসল ঘটনা কী হয়েছে, তা জানতে পারেননি।

সেনবাগ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, তেমন কিছু ঘটেনি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে সামান্য পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে। বিএনপি কার্যালয়ে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে অফিসের সামনে পোস্টারে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।



মন্তব্য