kalerkantho


কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর

ওসির পর সেই বখাটে মাহিনকে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার সহযোগিতা!

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:২৬



ওসির পর সেই বখাটে মাহিনকে মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার সহযোগিতা!

ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কলেজ ছাত্র মাহিনকে বখাটে (ইভটিজিংয়ের অভিযোগ) যুবক হিসেবে ধরে জেলে না পাঠিয়ে বই পুস্তক কিনে দিয়েছিলেন থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন। এ ছাড়া বাবা না থাকায় তাঁর পড়াশুনা চালানোর দায়িত্বও নেন তিনি। ঘটনাটি দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশ হওয়ায় সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওসির এমন ভূমিকা প্রসংশিত হয় চতুর্দিকে। ছাত্রটির অসহায়ত্বের কথা জানতে পারেন সমাজের আরো অনেকে।

গতকাল বুধবার তাদেরই একজন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামও ছেলেটির পাশে দাঁড়াতে তাকে ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। এদিন দুপুরে উপ-পরিচালক শওকত ইসলামের পক্ষে ছাত্র মাহিনের মা রোকসানাকে চেক তুলে দেন মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. রহুল আমিন, পরিদর্শক মোজাম্মেল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন, ওসি (তদন্ত) মো, আফজাল হোসেন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী, সাবেক সভাপতি এম হেদায়েত, ইত্তেফাক প্রতিনিধি দিদার হোসেন টুটুল। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রহুল আমিন জানান, কলেজছাত্রী উত্ত্যক্তকারী হিসেবে ছাত্র মাহিনকে ধরে আনার পর সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন অসহায় জানতে পেরে তাকে জেলে না পাঠিয়ে তার পড়াশুনার জন্য প্রয়োজনীয় বই ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। যা সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এ কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক তাকে আর্থিকভাবে আরো সহযোগিতা করতে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেছেন। এই টাকা তার পড়াশুনার কাজে আসলেই তিনি সন্তুষ্ট হবেন। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, মাহিন মিরসরাইয়ের নিজামপুর কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। মা অনেক কষ্টে তাকে লালন পালন ও পড়াশুনা করাচ্ছেন। কিন্তু সে কুসঙ্গে পড়ে গিয়েছিল। 

সীতাকুণ্ড গার্লস কলেজের মেয়েদের ইভটিজিং করার সময় আমি তাকে আটক করে আনি। কিন্তু পরে পারিবারিক অবস্থা শুনে তাকে ভালো হবার জন্য সুযোগ দে‌ওবার কথা ভাবি। তখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তার প্রয়োজনীয় বই-পুস্তকও নেই। সব শুনে তাকে বই কিনে দিই এবং কিছু সহযোগিতা করি। এখন মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারাও তার জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। এতেও সে উপকৃত হবে। সবার সহযোগিতায় সে সুশিক্ষিত ও ভালো ছেলে হিসেবে মানুষ হলেই আমরা খুশি।

অন্যদিকে সবার সহযোগিতা পেয়ে খুশি মাহিনও। ওসির এ সহযোগিতা বিষয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহিন ভবিষ্যতে আর কোনো রকম খারাপ কাজে জড়িত থাকবে না বলে জানায়। পাশাপাশি মন দিয়ে পড়াশুনা করে ভালো ছাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মায়ের দুঃখ দূর করতে চায় বলে সে সাংবাদিকদের জানায়।



মন্তব্য