kalerkantho


শিবালয়ে মিরপুর ট্র্যাজেডি দিবস আজ

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:২৩



শিবালয়ে মিরপুর ট্র্যাজেডি দিবস আজ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মিরপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প করেছিলেন ইসমাইল মোল্লা। ১৯৭১ সালে ১০ ডিসেম্বর স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় সেই ক্যাম্প আক্রমন করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। আগুনে পুড়িঁয়ে দিয়েছিল ইসমাইল মোল্লার বাড়িসহ গ্রামের শতাধিক বসত বাড়ি। হত্যা করেছিল কুকারাম মন্ডলসহ আশেপাশের গ্রামের ২৭ জন নিরহ গ্রামবাসীকে। তবে মুক্তিবাহিনীর পাল্টা আক্রমনে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় পাক হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয়রা ১০ ডিসেম্বরকে মিরপুর ট্র্যাজেডি দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। মিরপুর যুদ্ধ নামে আজও সেই যুদ্ধের কথা  মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু  আজ পর্যন্ত এ গ্রামে গড়ে তোলা হয়নি শহীদদের স্বরণে কোন স্মৃতি চিহ্ন। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যত প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় সেই দিনগুলোকে স্বরণ করিয়ে দিতে শহীদদের নামে নির্মাণ করতে হবে স্মৃতিফলক, শহিদ মিনারসহ মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক পাঠাগার।  
 
স্থানীয়রা জানায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলার মিরপুর গ্রামের তেওতা ইউনিয়ন ছিল রাজাকারদের দখলে। চিহ্নিত রাজাকার রশিদ বাহিনী এলাকায় এক বিভীষিকার রাজত্ব কায়েম করেন। এদের সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনী মিরপুর ও আশেপাশের এলাকার ২৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। রশিদ বাহিনী হিন্দুদের বাড়ি-ঘড়ে লুটপাট চালিয়ে তা আবার আগুনে পুঁড়িয়ে দেয়। ধর্ষণ ও নির্যাতন করে এলাকার নারীদের। তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করার কেউ ছিল না। কিন্তু এর মধ্যে ইসমাইল মোল্লা গোপনে মিরপুর নিজ বাড়িতে গড়ে তোলে মুক্তিযোদ্ধের ক্যাম্প। এলাকার রাস্তা-ঘাট ভাল না থাকায় নির্জন নিভৃত গ্রাম হিসাবে পরিচিত থাকায় এখানে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা  আত্মগোপনে বিশ্রাম নেওয়াসহ ছোট ছোট অভিযান পরিচালনা করত এখান থেকে। 

এক পর্যায়ে তা রাজাকার বাহিনীদের কাছে ফাঁস হয়ে যায়।  এর প্রেক্ষিতে ১০ ডিসেম্বর প্রায় ২০০ পাকসেনা ও স্থানীয় রাজাকারা হামলা চালায় মিরপুর গ্রামে। দেড় ঘণ্টাব্যাপী মুক্তিবাহিনীদের সাথে পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। তারা পুরো গ্রামকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। অবশেষে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। 

স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মফিজ উদ্দিন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন,  স্বাধীনতার পর থেকে দিনটিকে মিরপুর ট্র্যাজেডি দিবস হিসাবে পালন করে আসলেও সরকারি ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়নি। 

তবে গ্রামবাসীদের জোর দাবি, দ্রুত সরকারিভাবে এখানে একটি স্মৃতি ফলক ও একটি মুক্তিযোদ্ধা বিষয় একটি লাইব্রেরি গড়ে তোলা হউক। 
 
স্থানীয় শ্রাবন্তী নামের এক স্কুলছাত্রী বলেন, আমাদের গ্রামে মুক্তিযুদ্ধে এত বড় গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু আমরা নতুন প্রজন্ম জানতে পারি না। তাই সরকারের কাছে আবেদন এখানে যেন একটি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিতে একটি পাঠাগার গড়ে তোলা হয়। যাতে আমরা  আমাদের গৌরবের ইতিহাস জানতে পারি।

এলাকাবাসী জানান, এ দিবস উপলক্ষে আজ সারা দিন স্থানীয মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে  আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য