kalerkantho


বিএনপি নেতা তৃপ্তিকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছে শার্শার বিএনপি

জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৪



বিএনপি নেতা তৃপ্তিকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছে শার্শার বিএনপি

মফিকুল হাসান তৃপ্তি। ছবি: কালের কণ্ঠ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-১ (শার্শা) আসনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি  বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সবুজ সংকেতের আশায় কেন্দ্রে লবিং তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে জল্পনা-কল্পনা, চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায়, হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট, গ্রামের অলি-গলিসহ সর্বত্র এখন চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। সঙ্গে সঙ্গে বিগত দিনের নেতাদের কর্মকাণ্ডের চুলচেরা হিসাব-নিকাশ। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়ে-চড়ে বসতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। তবে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি আর কে হচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এসব নিয়েই এখন মূল আলোচনা চলছে। তবে এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জোর চেষ্টা করছেন বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিসহ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মহসীন কবীর, শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান জহির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু। এখানেও রয়েছে দলের মধ্যে বিবাদ। 

সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে দলে নেওয়ায় মনোনয়ন ঠেকাতে মরিয়া একটি পক্ষ। আবার জামায়াতের অস্তিত্ব নিয়েও রয়েছে বিএনপিতে ভয়। তবে বিএনপির তিন প্রার্থী আতঙ্কে আছেন মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে নিয়ে। তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া ও প্রার্থী হিসেবে নাম আসার এমন গুঞ্জনে শার্শা বিএনপির রাজনীতিতে বেশ ঝড় উঠেছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী মফিকুল হাসান তৃপ্তির ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, দল থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন বিএনপির এই নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী বিএনপির একমাত্র তিনি।
 
বিএনপির এক অংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে মফিকুল হাসান তৃপ্তির রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। অন্য অংশটি তার বিরোধীতা করে আসছে অনেক আগে থেকে। তারপরও তিনি এলাকায় এলে শত শত নেতাকর্মীরা তার পাশে থাকেন। ইতিমধ্যে তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে দলে। দলীয় নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড তাকেই মনোনয়ন দেবেন। তিনিই শার্শার একমাত্র বিএনপির দলীয় প্রার্থী হওয়ার যোগ্য। 

শার্শার মানুষের বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী নেতা-কর্মীদের শক্তি ও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক কারণে মাঠে সরব না থাকলেও পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার অভাব হয়নি। বিএনপির শাসনামলে দুর্দান্ত দাপুটে এই নেতা এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল, মাদরাসা নির্মাণ দলমত নির্বিশেষে দুই শতাধিক লোককে চাকরি দেয়ায় বিএনপি বিরোধী অনেকেই তাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন। 

ওয়ান ইলেভেনে বিতর্কিত হয়ে পড়লে এলাকার সঙ্গে বেশ কিছুদিন যাতায়াত বন্ধ থাকলেও তার দলে ফেরা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ শার্শা আসনে জামায়াত নির্বাচনে করে হেরে যায়। এবারের নির্বাচনে মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় এলাকার জনগণ। বিএনপির মনোনয়ন জমা দেবার দিন দল বেধে শার্শার জনগণ ছুটে যায় তাকে মনোনয়ন জমাদানে উৎসাহ যোগাতে। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। বিএনপি‘র মনোনয়ন তিনি পাবেন বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।

যশোর জেলা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ‘শার্শা সীমান্তবর্তী উপজেলা। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলও এ সংসদীয় আসনে অবস্থিত। এখানে জোটের প্রার্থী জামায়াতের কেউ হোক, তা আমরা চাই না। জামায়াতের প্রার্থীকে রুখতে হলে বিএনপির একজন শক্ত প্রার্থী দরকার, সে কারণে মফিকুল হাসান তৃপ্তির কথাই ভাবছেন অনেকে।

মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন, তার রাজনীতিতে শুরু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে। শহীদ জিয়ার রাজনীতির মূলভিত্তি ১৯ দফা বাস্তবায়ন করার লক্ষে তিনি এ দলের বিভিন্ন পদে বিভিন্ন সময় অধিষ্ঠিত ছিলেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই এ আসনটি তিনি দলকে উপহার দিতে পারবেন।

যশোরের শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনে অবস্থিত। এই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৩ জন। আর নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫৫ জন। এ আসনে নারী ভোটার বেশি। সব দলের জন্য এই আসনটি মর্যাদার। বিগত ১০টি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি‘র প্রার্থী ৩ বার, বিজয়ী হয়েছে। 

১৯৭৯ সালে বিএনপির আলী তারেক, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি ও ২০০১ সালে বিএনপির আলী কদর। প্রতিটি রাজনৈতিক দল এই আসনটি তাদের দখলে রাখতে চেষ্টা করে সব সময়। অতীতের নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এই আসনটির দাবিদার উভয় দল। তাই আগামী নির্বাচনে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে যেমন মরিয়া বিএনপি অন্যদিকে দখলে থাকা এই আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। এই দুই দলেই অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে। একপক্ষ অন্যপক্ষকে সামান্যতম ছাড় দিতে নারাজ।



মন্তব্য