kalerkantho


প্রতিবন্ধী ছাত্রকে পিইসি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেননি প্রধান শিক্ষক

‘পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হবে’

মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:০৫



প্রতিবন্ধী ছাত্রকে পিইসি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেননি প্রধান শিক্ষক

নরসিংদীর মনোহরদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছাত্রকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) অংশ নিতে দেননি প্রধান শিক্ষক। সিফাত আহমেদ নামের ছাত্রটি এই বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে ধারাবাহিকভাবে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করে আসছে। সন্তানকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে অনেক দিন ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাননি ওই ছাত্রের মা সুফিয়া বেগম। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাখিলকৃত অভিযোগ এবং সুফিয়া বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিফাত আহমেদ কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। সাধারণ ছাত্রের মতো লিখতে ও পড়তে পারে না। তাই বাসায় এবং শিক্ষকের মাধ্যমে বিশেষ যত্নসহকারে তাকে পড়ালেখা করানো হয়।

জানা যায়, গত জুলাই মাসে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনে সিফাত আহমেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে ওই ছাত্রের মা সুফিয়া বেগম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক জানান, শিফাত একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হবে। তাই তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ছেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুফিয়া বেগম বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আর্জি জানান। পরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সুফিয়া বেগম এবং প্রধান শিক্ষক আমিনা পারভিনকে তাঁর কার্যালয়ে ডাকেন। সেখানেও প্রধান শিক্ষক একই উত্তর দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানান। 

একপর্যায়ে সুফিয়া বেগম তাঁর ছেলেকে অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ছাড়পত্র চান। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাতেও রাজি হননি। এভাবে বিদ্যালয় এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসে ঘুরেও ছেলেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা অংশগ্রহণ করাতে পারেননি সুফিয়া বেগম।

সিফাতের মা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘যখন জানতে পারি আমার ছেলের নাম ডিআরভুক্ত হয়নি, তখন বিদ্যালয়ে এবং বাসায় গিয়ে প্রধান শিক্ষকের হাত-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেছি ছেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। কিন্তু তাতেও উনার মন গলেনি। পরবর্তী সময়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়েও কোনো উপকার পাইনি।’  

প্রধান শিক্ষক আমিনা পারভিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিফাত নামের ওই ছাত্র একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’  

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, ‘সিফাতের মায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন ওই ছাত্র একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারবে না। তাই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন আমি প্রধান শিক্ষককে ওই ছাত্রের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম।  কিন্তু পরবর্তী সময়ে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মো. রুহুল সগীর বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া খুবই দুঃখজনক এবং অমানবিক। এ বিষয়ে আগে আমার জানা ছিল না। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্যায় করেছে। বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য