kalerkantho


সাগরদ্বীপ আলোরকোলে কাল থেকে শুরু হচ্ছে রাস উৎসব

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:৪৩



সাগরদ্বীপ আলোরকোলে কাল থেকে শুরু হচ্ছে রাস উৎসব

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও শুরু হচ্ছে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের আলোরকোলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তিন দিনব্যাপী ঐতিহাসিক রাস উৎসব। আগামীকাল বুধবার ভোর ছয়টা থেকে যাত্রা শুরু হবে পূণ্যার্থীদের।

এ উৎসবকে ঘিরে আগত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে সাগরদ্বীপ আলোরকোল। এ জন্য বনবিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ রেখে আগতদের জানমালের নিরাপত্তা এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২৩ নভেম্বর ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে পূণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ রাস উৎসব।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূণ্যার্থীদের যাতায়াতের জন্য সুন্দরবনের আটটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শরণখোলা রেঞ্জের বগী স্টেশন-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলারচর হয়ে আলোরকোল এবং শরণখোলা স্টেশসন-সুপতি স্টেশন ও শেলারচর হয়ে আলোরকোলে পৌঁছতে পারবেন পূণ্যার্থীরা। ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর এই দিন আলোরকোলে বসবে রাস মেলা। প্রত্যেক পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর তিনদিন অবস্থানের জন্য ৫০টাকা, নিবন্ধিত ট্রলার ২০০টাকা এবং অনিবন্ধিত ট্রলারে ৮০০টাকা রাজস্ব ধরা হয়েছে।

পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনবিভাগের পাশাপাশি নৌ-বাহিনী, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ-পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া কন্ট্রোল রুমে স্বার্বক্ষণিক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদারকির দায়িত্বে থাকবেন।

তিনি জানান, এবার রাস উৎসবের নিয়মাবলীতে একটু ভিন্নতা আনা হয়েছে। অন্যান্য বছরগুলোতে পূণ্যার্থীরা রাতের বেলায় রওনা হতো। কিন্তু এবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে ২১ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকেই যাত্রা শুরু হবে। তাছাড়া আলোরকোলে নারী পূণ্যার্থীদের পোষাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা শেড ও পর্যাপ্ত টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। তিনদিনের এ রাস মেলায় প্রশাসন, বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের কোলঘেসে গড়ে ওঠা দ্বীপ দুবলরা চর আলোরকোলে দুইশ’ বছরের অধীক সময় ধরে নভেম্বর মাসের রাস পূর্ণিমায় সনাতন ধর্মের লোকেরা এই রাস উৎসব পালন করে আসছে। প্রথম দিকে এই উৎসবের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা আইনি নিয়মনীতি মানা হতো না। পরবর্তীতে বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং দুবলার মৎস্যজীবীদের সংগঠন দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাবসেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে রাসমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্ত জিয়াউদ্দিনের মৃত্যুর পর গত দুই বছর ধরে বনবিভাগের মাধ্যমেই এই উৎসব পালিত হচ্ছে। রাস উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর এখানে ঘটে দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক লোকের এক মিলনমেলা।



মন্তব্য