kalerkantho


উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে

ভোলা ২: আলী আজম মুকুলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের আস্থা

ভোলা প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ১৭:২৪



ভোলা ২: আলী আজম মুকুলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের আস্থা

ভোলা ২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন) আসনে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে তৃণমূল আওয়ামী লীগের আস্থা একমাত্র আলী আজম মুকুল। আগামী ৩০শে ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন দুই উপজেলায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ ও তরুণলীগসহ সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের লোকজন তার পক্ষে ইতোমধ্যে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।

তারা বলছেন, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় আগামীতে আলী আজম মুকুলের কোনো বিকল্প নেই। সাংগঠনিক নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় সাধারণ জনগণের সাথে আলাপকালে তারা কালের কণ্ঠকে একথা বলেন।

ভোলা ২ আসনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততার কথা আসলেই এ যাবৎ কালের দৃশ্যমানের সিংহভাগই ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত সাংসদ আলী আজম মুকুল এমপির হাত ধরেই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে এলাকায় উন্নয়নের পাশাপাশি বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতার সুষম বণ্টন করেছেন। পাশাপাশি শক্তিশালী কাঠামোতে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছে দুই উপজেলায়। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ রাজনীতিবিদ পৌর মেয়র থেকে সাংসদ হয়েছেন তৃণমূলের ভোটে। আসনটিকে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আসন বলা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ১৯৭৩ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তার পরেই পরপর ৮৬, ৮১,৯৬ সালে তিনবার নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক করেছেন বর্ষিয়ান আ’লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। জীবনের ৭বারের মধ্যে ৪ বারই তোফায়েল আহমেদ দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক হিসেবে শেখ হাসিনার সততা ও আদর্শকে বুকে লালন করে, জননেতা তোফায়েল আহমেদের ছেড়ে দেওয়া আসনে স্থলাভিষিক্ত হন ২০১৪ সালে নির্বাচিত বিজয়ী হয়ে আলী আজম মুকুল এমপি।

ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯৫৮ জন ভোটার নিয়ে ভোলা ২ আসন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মুকুল নিজের কর্মকাণ্ড দিয়ে আরো মন জয় করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের কাছে। গড়ে তুলেছেন সবার মাঝে এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। এলাকাবাসীর ধারণা দিনরাত দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিনের মানুষের পাশে থাকা মানুষগুলোই তাকে আপন করে নিয়েছে অতি সহজে।

এলাকাবাসী বলেন, তিনি একটু ব্যতিক্রমও বটে অন্যান্য সকল সাংসদদের চেয়ে। একজন খেটে খাওয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ এমপি মুকুলের কাছে এসে কথা বলতে পারেন সহজে। যখন তিনি মেয়র ছিলেন তখন থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে থাকতেন। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসা এ রাজনীতিবিদ মানুষের সুখে, দুঃখে, অভাব অনটনের কথা শুনে তা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। কেউ যেনো ফিরে যান না তার কাছ থেকে কথা না বলে ও সাহায্য না পেয়ে। তার এ অর্জনের পিছনে বড় কাজ হলো তিনি সাংসদ হয়েও মাসে ১৫ দিনের বেশি সময় নিজ নির্বাচনি এলাকায় কাটান। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন পুরোপরি নদী ভাঙার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। সাংসদ আলী আজম মুকুলের হাত ধরই আজ ৫৫২ কোটি টাকার সিসি ব্লোক, দুই উপজেলায় দুটি কলেজ ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ, বোরহানউদ্দিন লঞ্চ ঘাট অধুনিকায়ন, দৌলতখান উপজেলা কমপ্লেক্স, অসংখ্য নতুন রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণ করেছেন।

এ ছাড়াও দৌলতখান উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও বোরহানউদ্দিন উপজেলাকে নব্বই শতাংশ বিদ্যুতায়ন করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। দলের ও রাষ্ট্রিয় যে কোনো অনুষ্ঠানে নিজে নির্বাচনী আসনে স্ব-অবস্থান করে তা বাস্তবায়ন করেন। এসব কারণেই আজ আলী আজম মুকুল এমপির জনপ্রিয়তা স্বর্ণশিখরে। তৃণমূল নেতাকর্মী আজ মুকুলের জন্য ঐক্যবদ্ধ, তাকেই যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেছেন স্থানীয় জনগণ। তাই তৃণমূলের ভাবনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে এরকম ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আলী আযম মুকুলের বিকল্প নেই।

ইতোমধ্যে মুকুল মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন এবং আবারো আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করতে পরবে দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ ও আ’লীগের নেতৃবৃন্দের আশাবাদ। উন্নয়নের পাশাপাশি সাংগঠনিক দিক থেকে মুকুলের নেতৃত্বে দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের দূর্গ। তিনি সকল ইউনিয়ন, পৌর আ’লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি খুবই শক্তিশালী করেছেন। এ ছাড়াও কেন্দ্র কমিটি গঠন ছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আ’লীগের নেতাকর্মীদের সাথে উঠোন বৈঠক করে যাচ্ছেন দফায় দফায়। নেতাকর্মীরা মনে করেছেন মুকুলকে আবার মনোনয়ন দেওয়া হবে এবং আয়ামী লীগের দূর্গ ভোলা ২ আসনটি পুনরায় শেখ হাসিনাকে উপহার দেবে। 

দৌলতখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা প্রবীণ ও নবীন সবাইকে নিয়ে আলী আজম মুকুলের নেতৃত্বে দৌলতখান উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। তিনি নদী ভাঙ্গা রোধসহ যে উন্নয়ন করেছেন তা মানুষ সারা জীবন মনে রাখবে। আমরা শতভাগ আশাবাদী মুকুলই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবে এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমাদের আগামীর উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখবে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ আলী আজম মুকুলের নেতৃত্বে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য বদ্ধপরিকর। আমরা শুধু রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে না, আমাদের মনোনিত প্রার্থী আলী আজম মুকুল এমপি হয়ে নিজস্ব মেধা ও মননশীল চিন্তা নিয়ে যে উন্নয়ন করেছেন এ বোরহানউদ্দিনের মাটিতে তা হাফিজ ইব্রাহিম মন্ত্রী হয়েও করতে পারেননি। নিজ মাথায় মাটি নিয়ে তিনি বেড়ি বাধ নির্মাণ করেছেন। আজ বোরহানউদ্দিনে এক তিল জমির মাটিও নদী গর্ভে বিলীন হয় না। প্রত্যেকটি বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগও মুকুলের হাত ধরেই হয়েছে। মুকুলকে নিয়েই আগামীর উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখবে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের শতভাগ আশাবাদী।



মন্তব্য