kalerkantho


প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

ধর্মপাশায় দ্বিতীয় দিনে ২০ ভুয়া পরিক্ষার্থী ধরা

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:১১



ধর্মপাশায় দ্বিতীয় দিনে ২০ ভুয়া পরিক্ষার্থী ধরা

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার ২টি কেন্দ্র থেকে ২০ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে ধরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে ধরা পড়া ভুয়া পরীক্ষার্থীরা সকলেই উপজেলার রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রক্স) প্রকল্পের ‘আনন্দ স্কুলের’ শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এ সময় আরো বেশ কয়েকজন ভুয়া পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলে তাদের প্রবেশপত্র রেখে পালিয়ে যাওয়ারও তথ্য পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ উপজেলায় মোট ৫৭৯৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও রবিবার পরীক্ষার শুরুর দিনই ৫৫৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। এর মধ্যে উপজেলার ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ৫১৫৬ জন ১৩টি ইবতেদায়ি মাদরাসা থেকে ১১৪ জন ও উপজেলার রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের ৪৬টি ‘আনন্দ স্কুল’ থেকে ৫২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার কথা। 

তবে ‘আনন্দ স্কুলের’ পরীক্ষার্থীদের বদলে ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও সেলবরষ ইউনিয়নের সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই বহিরাগত শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো হচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে সোমাবর দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান পরীক্ষা চলাকালে দুটি কেন্দ্রের দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আনন্দ স্কুলের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র জব্দ করার নির্দেশ দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পৃথক পৃথকভাবে দুটি কেন্দ্রে গিয়ে জব্দকৃত প্রবেশপত্র যাচাই বাছাই করে ফাতেমানগর আনন্দ স্কুলের ৭ জন, আতকাপাড়া আনন্দ স্কুলের ২ জন, ধর্মপাশা উত্তরপাড়া আনন্দ স্কুলের ১ জন ও মাটিকাটা আনন্দ স্কুলের ১০ জনসহ মোট ২০ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে শনাক্ত করেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় থেকে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে পরিশোধ করা হবে জানানো হয়েছিল। প্রথম পরীক্ষার দিন অনেকেই ১০০ টাকা করে পেয়েছিল বলে জানায় তারা। 

রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের ট্রেনিং কোঅর্ডিনেটর (টিসি) সোহেলী আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ভূয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কোনো প্রকার অনিয়মের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে টিসি, অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রক্স) প্রকল্পের সহকারি পরিচালক জেসমিন আরা বানু গতকাল সোমবার রাত ৮টায় কালের কণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়টি আমি এই মাত্র আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। তবে আমাদের প্রকল্পের উপজেলা ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর (টিসি) সোহেলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



মন্তব্য