kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর অবদান

মির্জাপুরে গ্রামীণ মেঠোপথ আলোকিত হচ্ছে সৌরবিদ্যুতে

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ২১:২১



মির্জাপুরে গ্রামীণ মেঠোপথ আলোকিত হচ্ছে সৌরবিদ্যুতে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। পাশাপাশি গ্রামীণ মেঠোপথ আলোকিত করতে যোগ হয়েছে সোলার সিস্টেম। সরকার কাবিখা ও টিআর কর্মসূচীর আওতায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৩ টাকা ব্যয়ে মির্জাপুরে ৪৩৯টি স্ট্রিট লাইট ও ২৪৮টি হোম সিস্টেম সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছেন বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা ঢাকার কাছে হওয়া সত্ত্বেও এক সময় উপজেলার অনেক গ্রাম বিদ্যুৎহীন ছিল। রাতে ছিল গ্রামের মেঠোপথ অন্ধকারাচ্ছন্ন। অন্ধকারে পথ চলতে গা শিউরে উঠত। পাড়া মহল্লা ছিল ভূতুড়ে। সন্ধ্যার পর রাস্তায় দেখা মিলত না কোনো মানুষের। এখন গ্রামের সে চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্রামের মেঠোপথ, কবরস্থান, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসপাড়ায় এখন রাতে সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে। ঢাকার ব্রাইট গ্রীন এনার্জি ফাউন্ডেশন সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গ্রামীণ জনপদের হাটবাজার গুরূত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কের বাঁক এবং ছোট বড় সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ৪৩৯টি স্ট্রিট ও ২৪৮টি হোম সিস্টেম লাইট  স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে মির্জাপুর পৌরসভায় ১৩৫টি, মহেড়া ইউনিয়নে ৩৮টি, জামুর্কী ইউনিয়নে ৩৪টি, ফতেপুর ইউনিয়নে ২১টি, বানাইল ইউনিয়নে ২৬টি, আনাইতারা ইউনিয়নে ৪৫টি, উয়ার্শী ইউনিয়নে ৫০টি, ভাতগ্রাম ইউনিয়নে ২২টি, বহুরিয়া ইউনিয়নে ২৪টি, গোড়াই ইউনিয়নে ৭৭টি, আজগানা ইউনিয়নে ৪৪টি, তরফপুর ইউনিয়নে ৩৫টি, বাঁশতৈল ইউনিয়নে ৩৬টি, লতিফপুর ইউনিয়নে ৬১টি ও ভাওড়া ইউনিয়নে ৩৯টি সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে।

এসব সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে টিআর কর্মসূচীর আওতায় ১ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৯০ টাকা এবং কাবিখা কর্মসূচীর আওতায় ১ কোটি ৮৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯৩ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এরমধ্যে প্রতিটি স্ট্রিট লাইট ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা ও ১২ হাজার থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের হোম সিস্টেম লাইট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মানিক সূত্রধর, নুরু মিয়া, মোতালেব হোসেন সরকারের এই মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অন্ধকার মেঠোপথে চলাচলে সৌরবিদ্যুতের আলো সাধারণ মানুষ খুবই উপকৃত হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার মির্জাপুরের মেঠোপথকে সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করেছেন। তেমনিভাবে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনে পুনরায় মির্জাপুরের ভোটাররা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আলোকিত করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মির্জাপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনবল নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রামীণ জনপথের অন্ধকার দূর করতে সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় এসব সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করছে। সোলার স্ট্রিট ও হোম সিস্টেম লাইট মেঠোপথের অন্ধকার দূর করে আলো ছড়াচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



মন্তব্য