kalerkantho


ঈশ্বরদীতে ডাকাতের ছোঁড়া ককটেলে পাঁচ পুলিশ আহত

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:৩৩



ঈশ্বরদীতে ডাকাতের ছোঁড়া ককটেলে পাঁচ পুলিশ আহত

পাবনার ঈশ্বরদীতে ডাকাতদের ছোঁড়া ককটেলের আঘাতে পুলিশের এক এএসপি, এক এস আই, তিন পুলিশ কনস্টেবল এবং পুলিশের গুলিতে দুই ডাকাত আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আহতরা হলেন- ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক, এস আই  ইব্রাহিম হোসেন খান, কন্সটেবল গোতম রায়, শাহ জাহান আলী ও সামিউল ইসলাম। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাতরা হলেন- ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া গ্রামের মৃত তোফাজল হোসেনের ছেলে ফারুখ হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার ভোগাইল গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে মফিজুল ইসলাম মাসুদ।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পাবনা ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নের চুড়িমারাঘাটের পাশ্ববর্তী দাদপুর গ্রামে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আব্দুস সাত্তার কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে থানা থেকে মোবাইল ফোনে তাদের জানানো হয় এলাকায় ডাকাতদল ঢুকেছে। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে ডাকাতদের ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহবান জানানো হয়। তখন এলাকাবাসী রাস্তায় বের হলে ককটেল বিস্ফারণসহ কমপক্ষে ৭-৮ রাউন্ডগুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর পুলিশ দুই ডাকাতকে নিয়ে চলে যান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন সার্কেল, এস আইসহ পুলিশের পাঁচ সদস্যের আহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানান, আন্তঃজেলার ডাকাত দলের ৫-৭ সদস্যের একটি দল দাশুড়িয়া ইউনিয়নে ডাকাতি করার জন্য প্রবেশ করে। এমন খবরের ভিত্তিতে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যান। তারা চুড়িমালা ঘাট অতিক্রমকালে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল ছুঁড়ে মারে। এতে সার্কেলসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ১২ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ সংঘর্ষ এলাকা তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই ডাকাতকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ডাকাতদের ব্যবহৃত তিনটি চাইনিজ কুড়াল, একটি রামদা, একটি ক্রিজ চাকু, লোহার শাবল ও ককটেলের খোঁসা উদ্ধার করে। আহত ডাকাতদের পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আর পুলিশ সদস্যদের ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ওসি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। এদের নামে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ৮-১০ টি করে মামলা রয়েছে। ঈশ্বরদীতে থানাতেও ডাকাত ফারুখের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এরা বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

থানার একাধিক সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিরাতেই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসী ডাকাতির আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাই ডাকাতদের গ্রেপ্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ। ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সহযোগিতায় ডাকাতদের গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। এখন মানুষ স্বস্তি পাবে বলে সূত্রটি আশাবাদী।



মন্তব্য