kalerkantho


সিলেট ২: প্রার্থী ঠিক হলেই দেশে আসবেন কয়েক শ প্রবাসী

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:৪০



সিলেট ২: প্রার্থী ঠিক হলেই দেশে আসবেন কয়েক শ প্রবাসী

সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ দুটি উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সপরিবারে বসবাস করে আসছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ঠিক হলেই এ আসনের কয়েক শ প্রবাসী নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট ভিক্ষার জন্য দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইতোমধ্যে স্বল্প সংখ্যক প্রবাসীরা দেশে অবস্থান করছেন। এ আসনে প্রবাসী জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী। তারা দুজনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

এ আসনের সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুর রহমান চৌধুরীও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তবে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে অবস্থান করছেন। তবে মাঝে মাঝে যুক্তরাজ্য সফর করে দেশে ফিরেন তিনি।

এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের অপর দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এ আসনের আওয়ামী লীগ-বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী যুক্তরাজ্য অবস্থান করছেন। সেখানেও তারা নিজ নিজ দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে আ.লীগ-বিএনপি সর্মথনকারী প্রবাসীরা দলীয় প্রার্থী কে হচ্ছে, সেদিকে তাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। দলীয় প্রার্থী বাছাই হলেই দেশের পথে পা রাখবেন তারা এমটাই জানান দেশে থাকা তাদের আত্বীয়-স্বজনরা।

জানা গেছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই প্রবাসীরা দেশে আসার অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষ মাঠে কাজ করার ও ভোট প্রয়োগ করার জন্য অনেক প্রবাসী দেশে আসার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে তারা দেশে অবস্থান করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে যারা দেশে আসতে পারেন না, তারা ফোনের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইবেন। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলার বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ-বিএনপি সর্মথনকারী প্রবাসী রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে এলাকায় প্রবাসীর সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এলাকায় প্রবাসীর সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাবে বলে ধারাণা করা হচ্ছে। অনেকই নির্বাচনের আগ মূহুর্তে দেশে আসার জন্য বিমান টিকেট সংগ্রহ করে রেখেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই প্রবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এমটাই ধারণা করছেন স্থানীয়রা। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রবাসী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রার্থীদের নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনরা প্রবাস থেকে দেশে আসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কয়েক জন প্রবাসী নেতা ও প্রার্থীর আত্মীয়-স্বজনরা দেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

তবে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, তত বাড়ছে এলাকায় প্রবাসীদের সংখ্যা। সবদলের অংশগ্রহণে এবার সংসদ নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আমেজ। কে হচ্ছেন এ আসনে এমপি এনিয়ে এলাকার সাধারণ ভোটাদের কানাঘোষার পাশাপাশি প্রবাসীরা যুক্ত হচ্ছেন এ আলোচনায়। ফলে এ আসন এখন নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এ আসনে যারাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাদের অনেকের অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন প্রবাসে বসবাস করে আসছেন। তাই নির্বাচনের প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপশি প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনরাও দেশে আসতে শুরু করায় প্রবাসীদের মিলন-মেলায় রুপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সমাজসেবী কবির আহমদ জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা প্রবাসীদের মধ্যে অনেকেই দেশে এসে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। এ আসনটি প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় যেকোনো নির্বাচনেই প্রবাসীদের দেশে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া বলেন, বিএনপি বৃহৎ একটি সংগঠন। দেশের পাশাপাশি প্রবাসেও বিএনপির কমিটি ও অসংখ্য নেতাকর্মী রয়েছেন। ফলে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার জন্য একাধিক নেতাকর্মীরা দেশে অবস্থান করবেন বলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আলোচনায় শোনা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দলের সর্মথনকারী প্রবাসীরা দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। এবারের নির্বাচনে আমাদের প্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের জবাব ভোটের মাধ্যমে দেওয়া হবে। 

বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, এ আসনে প্রবাসীরাও প্রতিটি নির্বাচনে এলাকায় অবস্থান করেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীরা দেশে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। তারা নিজ যোগ্যতাবলে প্রবাসেও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষ গণজোয়ার সৃষ্টি লক্ষে প্রবাসী দলীয় নেতাকর্মীরা দেশে আসবেন। আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা এম ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে তাহসিনা রুশদি লুনা (ভাবী) এ আসনে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করবেন। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে গত উপজেলা নির্বাচনের মতো এলাকার ভোটারা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুমের প্রতিবাদ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জবাব দিবেন বলে আশাবাদী।

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলয়ের উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ বলেন, সিলেট-২ আসনে আনোয়ারুজ্জামানে বিকল্প নেই। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় নৌকা প্রতিক পাবেন বলে আশাবাদী। তিনি দলীয় প্রতীক পেলে বিজয় সুনিশ্চিত। নৌকার পক্ষ কাজ করার জন্য প্রবাসে থাকা দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ ভোটরাও দেশে আসার পথে।

শফিক চৌধুরী বলয়ের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শফিকুর রহমান চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পাবেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে আওয়ামী সংগঠনের কমিটিও রয়েছে। তাই নির্বাচন উপলক্ষ্যে এ অঞ্চলের প্রবাসী নেতাকর্মীরা অনেকেই দেশে আসাটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, আমি আশাবাদী আমাদের আওয়ামী পরিবারের প্রবাসী ভাইয়েরা দেশে এসে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে অবস্থান করা তাদের নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনদের বলে দিয়ে নৌকা মার্কার নির্বাচর্নী প্রচারণা অংশগ্রহণ করবেন। প্রবাসী ভাইয়েরাসহ উপজেলার সাধারণ ভোটার ও সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহয়োগিতায় আগামী ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার বিজয় নিশ্চিত হবে ইন্নশআল্লাহ।
 



মন্তব্য