kalerkantho


সিলেট-২ আসন

ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, এবার নির্বাচনী খেলা!

মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৩৮



ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, এবার নির্বাচনী খেলা!

সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) প্রবাসী অঞ্চল হিসাবে দেশে বিদেশে পরিচিত। দুটি উপজেলা নিয়ে এ আসনের বর্তমান অবস্থান। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করে আসছেন। ইতিমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর উৎসবে আমেজে নির্বাচনী খেলা জমেছে চারিদিকে। 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এক ডজন দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে ছয়জন, বিএনপি থেকে দুইজন, জাতীয় পার্টি থেকে একজন, স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন, ইসলামী আন্দোলনের একজন, ইসলামী ঐক্যজোটের একজন প্রার্থী রয়েছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সিলেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও শেফিল্ড শাখার সভাপতি মোহিদ আলী মিঠু ও যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শাহজাহান।

বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদি লুনা, তাঁর ছেলে আবরাব ইলিয়াস অর্ণব। জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। খেলাফত মজলিস থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার মাওলানা মুহাম্মদ আমির উদ্দিন ও ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা যুগ্ম সম্পাদক আ ক ম এনামুল হক দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার রয়েছেন। সব মিলিয়ে সিলেট-২ আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে।

তবে নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মুখে মুখে শুনা যাচ্ছে এবার ফুটবল নয়, ক্রিকেট নয়, এবার খেলা নির্বাচন, আর এই নির্বাচনী মাঠে খেলতে নেমেছেন জোট প্রার্থী ও মহাজোটের প্রার্থী, তবে দেখা যাক কার নেটে গিয়ে বল ডুকে। মেসির পায়ে যখন বল আসে তার প্রতিপক্ষ জান বাজি রেখে গোলটি রক্ষা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তবে বেশির ভাগ ভোটারদের কাছ থেকে শোনা যায় জোটের শক্ত প্রার্থী নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনা কিংবা ছেলে আবরাব ইলিয়াস অর্ণব। তবে মেসির পায়ের গোলটি রক্ষা করতে হলে শক্ত ডিপেন্সের দরকার এই ডিপেন্স হচ্ছেন মহাজোটের প্রার্থী কে শফিক চৌধুরী না আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন এ নিয়ে দুই উপজেলা জুড়ে চলছে সরব আলোচনা। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হচ্ছেন এখনই বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এর জন্য আরও দুই-তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তায় দলের কর্মী ও সমর্থকরা। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন বেশি পেতে তৎপর রয়েছেন। ফলে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নমিনেশন পেতে দেশ-বিদেশে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার কান্ডারী কে হবে তা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

জানা গেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের জন্য আওয়ামী লীগই বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমান চৌধুরী কিংবা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর জোর তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা দু'জনই নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দেশে এসে বিশাল শোডাউন করেছেন। শফিকুর রহমান চৌধুরী নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগে থেকে এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন। 

এলাকায় তার উপস্থিত ছিল সরব। দুটি উপজেলায় শফিক চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন ফরম জমাকালে তাদের অনুসারীরাও ঢাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ কারণে অন্য যেকোনো বারের চেয়ে এবার একাধিক সংখ্যক যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে নমিনেশন পেতে প্রার্থীদের প্রচুর ঘাম ঝরাতে হবে, তা বলার অবকাশ রাখে না। আওয়ামী লীগের দুটি বলয়ের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মনোনয়ন পাবেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে আওয়ামী লীগ কাজ করবে বলে দলের একাধিক নেতা জানান। আর তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেতে প্রার্থীদের মধ্যে মাঠে ময়দানে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। শেষ মুহূর্তে জোট-মহাজোট থেকে নমিনেশন কে পান তা এখন কেবল দেখার বিষয়। 



মন্তব্য