kalerkantho


পঞ্চগড়ে নদী গবেষণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:১৫



পঞ্চগড়ে নদী গবেষণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

প্রথম বারের মতো নদীর হ্যাবিটেট সার্ভে শুরু করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার সকালে পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে শুরু করা রিভার হ্যাবিটেট সার্ভে নামে এই নদী স্বাস্থ্য গবেষণা চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। করতোয়া নদীর দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলবে এই গবেষণা। পঞ্চগড় ছাড়াও নীলফামারী ও লালমনিরহাটের দুটি নদীতেও একই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ৭১ জন শিক্ষার্থী এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন। তাদের সাথে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদের, সহকারী অধ্যাপক নিউটন হাওলাদারসহ তিন জন কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আল আমিন ও দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক সাজেদুল আলম সহযোগীতা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অংশ হিসেবে নদীর স্বাস্থ্য নিয়ে এধরনের গবেষণা এটাই প্রথম বলে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এই গবেষণায় করতোয়া নদীর পূর্বের অবস্থার সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা, নদীর তীরবর্তী মানুষের বসবাসের উপযোগীতা, পানির উচ্চতা ও গভীরতা নির্ণয়, নদীর দূষণ, নদীর জীবন বৈচিত্র অবলোকন, নদী কেন্দ্রীক বিভিন্ন জিনিসের নমুনা সংগ্রহ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহমানতা, নদীর ভবিষ্যত প্রবাহ ধারণাসহ নদীর প্রাণ ও স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়লের শিক্ষার্থী ও টিম লিডার নিথোরা মেহরাব বলেন, আমরা নদীর আচরণ ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রথম বারের মতো গবেষণায় অংশ নিয়েছি। এটি আমাদের পাঠের অংশ। তবে এর মাধ্যমে নদীর স্বাস্থ্য ও নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনের সাথে নদীর সম্পর্কসহ নতুন অনেক বিষয় উঠে আসবে। আমরা এই কাজে অংশ নিতে পেরে খুবই আনন্দিত।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, রিভার হ্যাবিটেট সার্ভে নামে আমাদের যে গবেষণাটি শুরু হয়েছে। এটি মূলত নদী স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা। আসলে আমরা নদীকে একটি প্রাণ ধরে প্রতিদিন তার উপর যে পরিমাণ দূষণ, তার ব্যবহার, গতিরোধ, নদীর সাথে নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবনের উপযোগীতাসহ অনেক বিষয় উঠে আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এধরনের গবেষণা এটিই প্রথম। আমাদের গবেষণার এই প্রতিবেনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে উপস্থাপন করা হবে। এতে নদী নিয়ে সরকারের নানা উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।



মন্তব্য