kalerkantho


বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিল তৈশী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৫৩



বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিল তৈশী

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাবার লাশ বাড়িতে রেখে জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় (পিইসি) অংশ নিতে হলো তৈশী বসুকে। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গত ৭ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তৈশী বসুর পিতা। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেকর্ড কিপার অনিমেষ বসু (৪৫)।

গতকাল শনিবার রাতে ঢাকার আয়শা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত অনিমেষ বসু গোপালগঞ্জ জেলা শহরের নবীনবাগ এলাকার চৈতন্য বসুর ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেকর্ড কিপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই বিপুল বসু জানিয়েছেন, গত ১১ নভেম্বর গোপালগঞ্জ শহরের বাসা থেকে একটি থ্রি-হুইলারে (মাহেন্দ্র) করে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে যাচ্ছিলেন অনিমেষ বসু। মাহেন্দ্রটি টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা নতুন বাজার এলাকায় অপর একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ওভারটেক করতে গেলে টুঙ্গিপাড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গোল্ডেল লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে মাহেন্দ্র যাত্রী লিমন মুন্সী ও অনিমেষ বসুসহ চার যাত্রী আহত হন। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা হাসপাতালে লিমন মুন্সী মারা যান। নিহত লিমন মুন্সী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের মাটলা গ্রামের মোমরেজ মুন্সীর ছেলে। তিনি রূপালী ব্যাংক টুঙ্গিপাড়া শাখায় এমএলএসএস পদে কর্মরত ছিলেন। 

গুরুতর আহতাবস্থায় অনিমেষ বসুকে প্রথমে খুলনা ও পরে হেলিকপ্টার করে ঢাকার আয়শা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে অনিমেষ বসু মারা যান।

এদিকে, অনিমেষ বসুর মৃত্যুর সংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার বাড়িতে। নিহতের ছোট মেয়ে পিইসি পরীক্ষার্থী তৈশী বসুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য শোকে পাথর। অথচ মৃত বাবার লাশ রেখে জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় তাকে অংশ নিতে হলো। 



মন্তব্য