kalerkantho


প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের আকুতি

'মানুষের দয়া নাই রে, মায়া নাই রে'

মোহাম্মদ আলী শিপন, বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৩৬



'মানুষের দয়া নাই রে, মায়া নাই রে'

'ও গেঞ্জি আলা ভাই, ও লাল শার্ট আলা ভাই, ও বোরকা পড়া আপা, ও টাস মোবাইল আলা ভাই, মানুষের দয়া নাই রে, মায়া নাই রে'। এভাবে প্রতিদিন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের বাসিয়া সেতুর ওপর চলাচল করলে হুইল চেয়ার বসা প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক যুবকের আকুতি শোনা যায়। তার নাম জাহাঙ্গীর আলম (২৩)। সে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা থানার শহরতলি গ্রামের মৃত ফেরদৌস মিয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে তার মায়ের সঙ্গে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের টিঅ্যান্ডটি রোডে অবস্থিত একটি কলোনিতে বসবাস করে আসছে।

গত শুক্রবার সকালে সরেজমিনে বাসিয়া সেতুর ওপর গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বনাথ উপজেলার সদরের প্রাণকেন্দ্র বাসিয়া সেতু। এ সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শতশত গাড়ি ও হাজারো মানুষ চলাচল করেন। সেতুর একপাশে উপজেলা সদরের পুরান বাজার ও অপর পাশে নতুন বাজার। 
ফলে প্রতিদিনই এ সেতুর ওপর দিয়ে পথচারী-স্কুল-কলেজ-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। সেতুর মধ্যখানে হুইল চেয়ারে বসা প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জাহাঙ্গীর আলম। সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের দেখামাত্রই শুরু হয় তার ভিক্ষার আকুতি। এতে কেউ টাকা দিলে তার জন্য দোয়া করে এবং টাকা না দিলে বলে 'মানুষের দয়া নাই রে, মায়া নাই রে'। তবে পথচারী নারী-পুরুষ-প্রবাসী অনেকেই তাকে নিজ সাধ্যমতো টাকা দিতে দেখা যায়। 

শুক্রবার সকালে বাসিয়া সেতুর ওপর প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আলাপকালে সে জানায়, জন্মের পর থেকে সে প্রতিবন্ধী হিসেবে বড় হয়েছে। ছয় বছর বয়স থেকে সে ভিক্ষা করে আসছে। ২০১৭ সালে তার বাবা মারা যান। উপজেলা সদরের একটি কলোনিতে এক হাজার টাকা ভাড়া বাসায় তার মা-ছোট বোন নিয়ে বসবাস করে। প্রতিদিন প্রায় ৩-৪ শ টাকা ভিক্ষা করে সে পায়। ওই ভিক্ষার টাকা দিয়েই চলে তার তিন সদস্যের পরিবার। তার পা দুটি অচল হওয়ায় প্রতিদিন সকাল ৯টায় তার মা হুইল চেয়ার করে বাসিয়া সেতুর ওপর তাকে রেখে যান এবং বিকেলে এসে নিয়ে যান। ভিক্ষা করে সে সংসার চালায়। সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেলে ভিক্ষা ছেড়ে দেবে বলে জানায় সে। 

জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত সিলেটের বিশ্বনাথ। এ উপজেলায় ভিক্ষুকের সংখ্যা অন্য এলাকার চেয়ে বেশি। সিলেট বিভাগ তথা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শীত মৌসুম কিংবা রমজান মাসের শুরু, বছরের দুটি ঈদে ভিক্ষুকের উপস্থিতি বেড়ে যায়। তারা বিভিন্ন মার্কেটের সামনে কিংবা রাস্তার পাশে বসে থাকে। প্রবাসী কাউকে দেখামাত্রই ছুটে যায় ভিক্ষুকরা। এতে অনেকেই বিরক্ত হন, আবার অনেকেই তাদের সাহায্য করেন। এখানে মহিলা ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে বেশ কয়েকজন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে বিশ্বনাথের স্থানীয় ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা হবে বলে তিনি জানান।



মন্তব্য