kalerkantho


ধামরাইয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে এক নারী আটক

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:০২



ধামরাইয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে এক নারী আটক

ঢাকার ধামরাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ভাড়া করা এক নারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় ভাড়া করা কামরুন্নাহার নামের এক নারীকে আটক করে গতকাল তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সেকেন্দার আলী জানান,আটক কামরুন্নাহারকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি করাতে আদালতে অবস্থান করছি। ঘটনাটি ঘটেছে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের উত্তর হাতকোড়া গ্রামে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই থানা পুলিশের এসআই মাহমুদ আলম সঙ্গীয় চারজন কনস্টেবল নিয়ে মধ্যবয়সী এক মহিলাসহ হাতকোড়া গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে আবদুস সাত্তারের (২৭) শোয়ার ঘরে ঢোকে শুক্রবার সন্ধ্যায়। ঘরে ঢোকেই দরজা বন্ধ করে দেয় তারা। এ সময় সাত্তার খাবার খাচ্ছিল। এরপর পুলিশ সদস্যরা সাত্তারের ঘর তল্লাশি করতে থাকে। এক পর্যায়ে সাত্তারের বালিশের নিচে থেকে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে বাড়ির লোকজনকে দেখানো হয়। এ সময় সাত্তারকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় সাত্তারকে ছাড়িয়ে রাখতে সাত্তারের ভগ্নিপতি মামুন হোসেন এস আই মাহমুদ আলমকে অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তা দিতে অস্বাীকার করায় সাত্তারকে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় ওই রাতেই সাত্তারের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া করে পুলিশ। এ সময় সাত্তারের সঙ্গে কথা বলেন ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা। সাত্তার ঘটনার ষড়যন্ত্রের শিকার বলে ধারণা পায় ওসি দীপক। পরে ওই রাতেই ওসি সাত্তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে থাকে এলাকায়। সাত্তার সম্পর্কে এলাকাবাসী ভালো সমর্থন করায় নতুনভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে থাকা সোর্স কামরুন্নাহারকে রাতেই আটক করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কামরুন্নাহারের কাছে জানতে পারে সাত্তারকে ইয়াবা দিয়ে ফাসাতে তাকে ভাড়া করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে থানা থেকে সাত্তারকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

সাত্তারের আপন চাচা শুকুর আলীর সঙ্গে ৮ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মামলাও হয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে সাত্তারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে পুলিশের সোর্স হিসেবে সামসুন্নাহারকে ভাড়া করে শুকুর আলী ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, শুকুর আলী ও তার স্ত্রী শহরবানুর কাছ থেকে জমির ক্রেতা একই গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আবদুল আলীম ও দক্ষিণ হাতকোড়া গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে কালাচান। ওই রাতেই অভিযান চালিয়েও তাদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।
 
সাত্তারের ভগ্নিপতি আকিজ ফুড এ্যান্ড বেভারেজ কারখানার শ্রমিক মামুন হোসেন বলেন,সাত্তারকে ছাড়িয়ে রাখতে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু দারোগা মাহমুদ আলম ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। 

সাত্তারের বাবা হাছেন আলী জানায়, আমার ছেলে সাত্তার ইটভাটার শ্রমিক। প্রতিদিন ভোর রাতে কাজে যায়। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে। তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে পুলিশ আটক করার পর জানতে পারে তার ছেলে নির্দোষ। তিনি বলেন, তার আপন ভাই শুকুর আলী ৮ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছে। ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধে গত ছয় মাস আগে সাত্তারের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত এক মহিলা দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দেয় ওই চক্রটি। সাত্তারকে ওই সময় আটকও করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে অভিযোগটি মিথ্যা। ওই সময় সাত্তারকে থানা পুলিশ ছেড়ে দেয়। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাতকোড়া গ্রামের আবদুল কাদের মোল্লা বলেন,সাত্তার ইয়াবা সেবনতো দুরের কথা কোন দিন একটি বিড়িও পান করতে দেখিনি। সাত্তার ইটভাটার শ্রমিক ও ভাল লোক বিধায় ছেড়ে দিতে এস আই মাহমুদ আলমকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ছাড়েননি। 

টাকা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে এস আই মাহমুদ আলম বলেন, আমি থানায় নতুন যোগদান করেছি। আমি তখন বুঝতে পারেনি সোর্স হিসেবে কাজ করা মহিলা টাকা পাওয়ার চুক্তিতে সাত্তারকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। 

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, সাত্তারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে একটি চক্র নিজেরাই ফেঁসে গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 



মন্তব্য