kalerkantho


সিলেট-৫ আসন

জাপাকে আওয়ামী লীগের না, জামায়াতে বিএনপির অনীহা

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:০৮



জাপাকে আওয়ামী লীগের না, জামায়াতে বিএনপির অনীহা

সিলেটের দুই সীমান্ত উপজেলা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট নিয়ে সিলেট-৫ আসন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন। দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা ভোটে এমপি মনোনীত হয়ে পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় হুইপ নির্বাচিত হন। এবারো তিনি সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে জাপার মনোনয়ন চেয়েছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগ এবার দলীয় প্রার্থী চাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে দলের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, দল করি তাই দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে গত বছর মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলাম। স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থেই এবার দলীয় প্রার্থী চাচ্ছেন স্থানীয়রা।

এ আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান সাবেক সাংসদ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ মজুমদার, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবির, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আব্দুল মোমিন চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোশতাক আহমেদ। সিলেট-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেও তা জমা দেননি রমনা শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর ফয়জুল মুনির চৌধুরী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, এ আসনে নৌকার প্রার্থী না দিলে ফয়জুল মুনির চৌধুরী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।

বৃহত্তর সিলেটে জামায়াতের অন্যতম আসন সিলেট-৫। যেখানে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলনা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোটের ব্যবধানে আ.লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি আ.লীগ প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে ৩১ হাজার ৬৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করেও জামায়াত প্রার্থী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন।

বর্তমানে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম রোকবানী চৌধুরী জাবেদ। তিনি ১৭,৮৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বদরুজ্জামান ইকবাল কানাইঘাট উপজেলা পরিষদে বিগত দিনে ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে কানাইঘাটে একটিতে ও জকিগঞ্জে একটিতে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। সব হিসেবেই জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছেন ফরিদ চৌধুরী।

জোটের কাছে জামায়াত এ আসনটি দাবি করে তা পুনরুদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছে। বিএনপি নেতারা এ আসনে জামায়াতকে ছাড় নিতে আর মোটেই নারাজ। তারা চাচ্ছেন দলীয় প্রার্থী। কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, চাকসুর সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, প্রবাসী নেতা শরীফ লস্কর, জাকির হোসেন ও জাহিদুর রহমান প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন।

চাকসু মামুন বলেন, সিলেট- ৫ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির হাত ছাড়া অথচ বিএপির ভোটে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনে লড়েন। 'সিলেট-৫ আসনকে জামায়াত মুক্ত’ করার প্রত্যয়ে নির্বাচনে লড়তে চাই। বিএনপির সকলস্তরের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থী চাচ্ছেন।

জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, দুই উপজেলা চেয়ারম্যানই বিএনপির। এখানকার মানুষ জামায়াত নয়, বিএনপিকেই অধিক ভালোবাসে। দলের সকল স্তর থেকে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি উঠেছে। যিনিই ধানের শীষের প্রার্থী হবেন সবাই তার জন্য কাজ করবেন।

সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোটে রয়েছি। জোট যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই মনোনয়ন দিবে।

এ ছাড়া ২০দলের শরীকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও এ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে জামায়াতের বিপরীতে প্রার্থী চাচ্ছে।



মন্তব্য