kalerkantho


অভয়নগরে কলেজ অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ; চার শিক্ষক আটক

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:১১



অভয়নগরে কলেজ অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ; চার শিক্ষক আটক

পরিচালনা পর্ষদ ও অধ্যক্ষের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে যশোরের অভয়নগর উপজেলার একটি কলেজের চারজন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার সময় উপজেলার মহাকাল স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃত শিক্ষকরা হলেন- মহাকাল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইতিহাস) মো. ইউনুস আলী মোল্যা, প্রভাষক (কৃষি শিক্ষা) অসীম কুমার বিশ্বাস, প্রভাষক (আইসিটি) চিন্ময় মজুমদার ও প্রদর্শক (সাচিবিক বিদ্যা) চিত্তরঞ্জন মজুমদার।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের চার শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন অধ্যক্ষ হিতেন্দ্রনাথ বোস। বরখাস্তকৃত শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে চাইলে অধ্যক্ষ তাতে বাধা দেন। এরই জের ধরে শনিবার সাড়ে ১১ টার সময় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে অধ্যক্ষকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করেন। এক পর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভয়নগর থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ সময় প্রতিষ্ঠান থেকে চারজন শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভয়নগর থানার অফিসাস ইনচার্জ আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অধ্যক্ষকের কক্ষের তালা ভেঙে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষকে মুক্ত করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজন শিক্ষককে আটক করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে চিকিৎসাধীন অধ্যক্ষ হিতেন্দ্রনাথ বোস বলেন, বিনা কারণে তার উপর চড়াও হয় কতিপয় শিক্ষক। এক পর্যায়ে তাকে লাঞ্চিত করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে ফোনটি কেটে দেন।

পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ডা. মিনারা পারভীন বলেন, অধ্যক্ষের উপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। এ কর্মকাণ্ডের সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বরিুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানাগেছে, চারজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তসহ একই সময়ে কলেজ বিভাগের ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছিল। শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজ অধ্যক্ষ হিতেন্দ্রনাথ বোস গভর্নিং বডির সাথে আঁতাত করে নিজ ইচ্ছা মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে বিনা কারণে দুর্ব্যবহার করেন। অপরদিকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।



মন্তব্য