kalerkantho


কক্সবাজার পৌরসভায় শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার    

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫১



কক্সবাজার পৌরসভায় শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ছবি: কালের কণ্ঠ

দীর্ঘদিনের জঞ্জালের শহর হিসাবে পরিচিত কক্সবাজার পৌরসভাকে অবশেষে পরিচ্ছন্ন রাখতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ জন্য সর্বাগ্রে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে গতি আনা হচ্ছে। সুদূর চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। হস্তচালিত এসব সরঞ্জামাদি নিয়ে শনিবার থেকে রাস্তায় নামবে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। ইতিমধ্যে ৪০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। গৃহীত এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভা সৌন্দর্যময় হবে। এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। কক্সবাজার পৌরসভায় ১৭ নভেম্বর থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ’১৮ উপলক্ষে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। 

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব সভাপতি মাহাবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর আকতার কামাল, সর্বসাংবাদিক মুজিবুল ইসলাম,আব্দুল কুদ্দুছ রানা, ইকরাম চৌধুরী টিপু, জাহেদ সরওয়ার সোহেল, দীপক শর্মা দীপু, নুপা আলম প্রমুখ পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভায় মেয়র মুজিবুর রহমান আরো বলেন- ‘নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নির্বাচিত হলে পৌরসভায় বর্জ্যের স্তুপ থাকবে না। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।’ 

এদিকে, পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেয়া হচ্ছে ইউনিফর্ম। আজ ১৭ নভেম্বর সকালে কর্মরত ৪০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাতে নিজেদের পেশাগত ইউনিফর্ম তুলে দেয়া হবে। যাতে যে কেউ সহজে তাদের চিনতে পারে। সে জন্য গ্রহণ করা হয়েছে এমন উদ্যোগ। বর্তমানে প্রতিদিন কক্সবাজার পৌরসভায় প্রায় ১০০ টন বর্জ্য জমে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যা সংগ্রহ পরবর্তী পৌরসভা নির্ধারিত স্থানে রাখেন। কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন ৪ ট্রাক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শহরতলীর চেইন্দাস্থ জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রে। 

মেয়র বলেন, শুধু পরিচ্ছন্নতার দিকে নয়। যানজট নিরসনেও নজর দেয়া হবে। সেই লক্ষ্যে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করবে কক্সবাজার পৌরসভার। প্রথমে এ জন্য বেছে নেয়া হয়েছে অবৈধ টমটমগুলোকে। দীর্ঘদিন ধরে টমটমকে পৌরসভায় যানজটের প্রধান কারণ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পৌরসভা কর্তৃক চলাচলের লাইসেন্স প্রদান করায় এসব টমটম উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। 

যদিও কক্সবাজার পৌরসভা বলছে প্রতিষ্ঠানটি আড়াই হাজার টমটমকে শহরের সড়কগুলোতে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সাড়ে ৫  হাজারের অধিক অবৈধ টমটম চলাচল করছে। শিগগিরই অবৈধ এসব টমটম জব্দ করা হবে। পাশাপাশি অনুমতিপ্রাপ্ত টমটমগুলো পৌরসভা নির্ধারিত দুইটি রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা যাবে। এরপর সব টমটমকে দুই অংশে ভাগ করা হবে। প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে দুই ভাগে শহরে চলাচল করবে অনুমতিপ্রাপ্ত আড়াই হাজার টমটম।  

বাঁকখালীতে ফেলা বর্জ্যে জনদুর্ভোগ চরমে
কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্যের গন্ধে শহরের এন্ডারসন রোডসহ আশেপাশের বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি এখন চরমে উঠেছে। ইতিমধ্যে শীত মওসুম এসে যাওয়ায় উত্তরের প্রবাহিত বাতাসে বর্জ্যের গন্ধ নিয়ে শহরবাসীর অবস্থা আরো কাহিল হয়ে পড়েছে। রাস্তা-ঘাটে চলাচলতো যেনতেন বাসা-বাড়িতে অবস্থানকারীদের অবস্থা হয়ে পড়েছে সবচেয়ে বেশি দুর্বিসহ।

দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এন্ডারসন রোডের উত্তরে বাঁকখালী নদীর নির্মাণাধীন খুরুশকুল সেতু প্রকল্পের স্থানে পৌরসভার বর্জ্য নিক্ষেপের ঘটনা। প্রতি দিন কমপক্ষে ৬০/৭০ ডাম্পার করে বর্জ্য সেখানে নিক্ষেপ করা হয়। অবস্থার বেশি অবনতি ঘটে যখন বর্জ্যের স্তুপ নড়াচড়া করা হয়। এ সময় উৎকট গন্ধে নাগরিক জীবন বিষিয়ে উঠে।

কয়েক বছর আগে শহরের ১০ কিলোমিটার দুরে দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকায় তিন একর জমি জুড়ে বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনের একটি কেন্দ্র স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়। প্রায় দশ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি গেল মাসে উদ্ভোধনও করা হয়। কথা ছিল শহরের সব বর্জ্য ওই প্রকল্পে ফেলা হবে। কিন্তু বর্তমানে দৈনিক মাত্র ৪/৫ ডাম্পার বর্জ্য সেখানে নিয়ে বাদবাকি বর্জ্য বাঁকখালীতে নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

বর্জ্যের জন্য কোটি কোটি টাকার এত বড় প্রকল্প স্থাপনের পরেও কি কারণে শহরের সিংহ ভাগ বর্জ্য বাঁকখালীতে ফেলা হচ্ছে। তার কোনো সঠিক কারণও জানা যায়নি। বাঁকখালীতে বর্জ্য নিক্ষেপের যে কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে সেই জনদুর্ভোগ থেকে পৌরবাসী কখন মুক্তি পাবে- এমন প্রশ্ন এখন শহরের উত্তরাংশের এক বিশাল জনগোষ্ঠীর।



মন্তব্য