kalerkantho


যশোর-১

আ. লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে শেখ আফিল উদ্দিন

জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৯



আ. লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে শেখ আফিল উদ্দিন

শেখ আফিল উদ্দিন

যশোরের শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনে অবস্থিত। এই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৩ জন। আর নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫৫ জন। এ আসনে নারী ভোটার বেশি। সব দলের জন্য এই আসনটি মর্যাদার। বিগত ১০টি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৫ বার, বিএনপি ৩ বার, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত একবার করে বিজয়ী হয়েছে। 

এই আসনে দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের তবিবর রহমান সরদার, ১৯৭৯ সালে বিএনপির আলী তারেক, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির ডা. নজরুল ইসলাম, ১৯৮৮ সালে জামায়াতের অ্যাডভোকেট নূর হোসেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের তবিবর রহমান সরদার, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির মফিকুল হাসান তৃপ্তি, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন আওয়ামী লীগের তবিবর রহমান সরদার, ২০০১ সালে বিএনপির আলী কদর, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের শেখ আফিল উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালে শেখ আফিল উদ্দিন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আকিজ পরিবারের সন্তান তরুণ শিল্পপতি শেখ আফিল উদ্দিন। তাঁকে প্রার্থী করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী দলের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, শেখ আফিল উদ্দিন শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরেই। সে সুবাদে দলের তৃণমূলে তাঁর আলাদা একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট বাড়িয়েছেন দ্বিগুণ। তাছাড়াও তিনি দুই বারের সংসদ সদস্য। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যশোর-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে দলও তাঁকে গুরুত্ব দিচ্ছে। শেখ আফিল উদ্দিন শেখ হাসিনার সরকারের অগ্রগতি ও উন্নয়নের বার্তা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ৫ বছর ধরে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, মা দিবস ও পথসভা করছেন। নৌকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করেছেন। 

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জীবনে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। সুযোগ পেলে যশোর-১ আসনের মানুষের উন্নয়নে আজীবন কাজ করে যাব। দলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমি শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি। শার্শাকে আমি একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। 

শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ধরেই এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। প্রথম ২০০১ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পেরে আমি এলাকা ছেড়ে যায়নি। শত নির্যাতনের মধ্যে কর্মীদের পাশে ছিলাম। নৌকার টিকিট পেয়ে তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হই। আমি মাঠ গোছানোর কাজ করেছি। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এলাকার নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে সব সময় পাশে থেকেছি, ভবিষ্যতেও থাকব। আশা করি আমার কাজের মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি যশোর-১ আসনের জন্য আমাকে মনোনয়ন দেবেন। আর আমি মনোনয়ন পেলে আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে পারব।

শেখ আফিল উদ্দিনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান দাবি করেন, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এমপি শেখ আফিল উদ্দিন নজিরবিহীন উন্নয়ন করেছেন। নিজ অর্থে রাস্তা, স্কুল-কলেজ নির্মাণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খাতা-কলম দিচ্ছেন। প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সংবর্ধনা দিয়েছেন। জুটমিল স্থাপন করে প্রায় ১০ হাজার নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি বিপ্লব ঘটেছে। আর কর্মীরা চাকরি, চিকিৎসা, অনুদান যখন যা বলেছেন এমপি তাই করেছেন। 

শার্শার আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক তিনিই বাড়িয়েছেন। গত ইউপি নির্বাচনে ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে তার সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এসব ইউনিয়নে তার ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। তার জয়লাভে যা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বক্তব্য আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শেখ আফিল উদ্দিনের বিকল্প কোনো প্রার্থীকে এখানে মনোনয়ন দিবে না। তিনিই মনোনয়ন পাবেন।

আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত যশোর-১ আসন নৌকার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। শক্ত হাতে বৈঠা ধরে সেই আসনে নৌকাকে মজবুত করেছিলেন আকিজ পরিবারের সন্তান বিশিষ্ট শিল্পপতি, যশোর জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন। নৌকার টিকিট পেয়ে তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। এবারও তিনি শক্ত প্রার্থী। শার্শার তৃণমূলের রাজনীতিতে শেখ আফিল উদ্দিনের অবস্থান অত্যন্ত সুসংসহ। ২০০১ সালে রাজনীতিতে এসে শার্শা আওয়ামী লীগের ভাঙা সংসার নতুন করে সাজিয়ে দলকে মজবুত করে গড়ে তোলেন। 

এ কারণে বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচন, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়। ২০০১ সালে নৌকা মার্কা নিয়ে রাজনীতির মাঠে আসা বিশিষ্ট শিল্পপতি শেখ আফিল উদ্দিন প্রথম নির্বাচনে পরাজিত হলেও এলাকায় থেকে দল পুনর্গঠন ও সুসংহত করেন। এ জন্য প্রথম দিকের এক দশক ধরে শার্শা ও বেনাপোলে আওয়ামী লীগের একক নেতৃত্ব দেন। প্রার্থী মনোনয়নে দল ভুল করলে এই আসন হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন অনেকেই। 



মন্তব্য